দিনাজপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সরকারি ও বেসরকারি ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো শুধু পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। এতে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি দুদক কর্মকর্তারাও প্রশংসা করেন পুলিশ বিভাগের কর্মকাণ্ডের।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই গণশুনানি। দুদক জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী। তিনি বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তাদের বেতন হয়। তাই জনগণের সেবা করাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুষ, দুর্নীতি বা অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং তা শুরু করতে হবে নিজ নিজ ঘর থেকে।”
এ সময় তিনি পুলিশ বিভাগের প্রশংসা করে বলেন, “আজকের গণশুনানিতে পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না আসা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি জনগণের আস্থার প্রতিফলন এবং পুলিশের সেবা মানের উন্নতির পরিচায়ক।”
মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সমাজকেও আহ্বান জানান প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, শুদ্ধাচার ও ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখাতে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দুর্নীতি বিরোধী চেতনা গড়ে ওঠে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন, দুদক রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহা. নুরুল হুদা এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। গণশুনানিতে জেলা দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আতাউর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, গণশুনানিতে প্রাপ্ত ১২৭টি অভিযোগ যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।