সবুজে ঘেরা দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সৃষ্টি হয় এক অন্যরকম দৃশ্য কান্না, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায় ভরা এক বিকেল।
দীর্ঘ ২৬ বছর শিক্ষকতা শেষে অবসর নেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক টুকু। বিদায়ের মুহূর্তে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভরে যায় প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকার মানুষের ভালোবাসায়। ফুলেল সাজে সজ্জিত গাড়িতে যখন তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন, তখন উপস্থিত সবার চোখে জল।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে তাঁকে দেয়া হয় এক অনাড়ম্বর কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া সংবর্ধনা। হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক ও ফুলের তোড়া।
সহকর্মীরা মুনসুর আলী বলেন, টুকু স্যার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। কর্মজীবনে কখনও অহংকার নয়, বরং সবার সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাঁর বিদায়ে বিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, স্যার ছিলেন আমাদের জীবনের আলোকবর্তিকা। তাঁর কাছ থেকেই আমরা জীবনবোধ ও দায়িত্ববোধ শিখেছি।
বর্তমান শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার বলেন, স্যারকে ক্লাসে আর না পাওয়ার কথা ভাবতেই কষ্ট হয়। এমন শিক্ষক আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
হাকিমপুর প্রেসক্লবের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানান, একজন সৎ, দায়িত্বশীল শিক্ষক কেমন হতে পারেন টুকু স্যার তার জীবন্ত উদাহরণ। বিদায়ের দিনে মানুষের যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন, তা তাঁর কর্মের স্বীকৃতি।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন, পাউশগাড়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মামুনুর রশীদ, হাকিমপুর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ জামান আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নওশাদ আলী, হিলি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানী, সমাজ সেবক শিক্ষা অনুরাগী মিশর উদ্দিন সুজন, হাফেজ মোঃ শহিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু উবায়দা, লিপি আরা, সুলতানা পারভীন, কুলছুমা বেগম, , সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী শিক্ষক, , মামুনুর রশীদ, আমিনুল ইসলাম, আরিফ হোসেন, সহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হাফসা খাতুন তার
আলোচনা সভা শেষে ফুলের মালা পড়িয়ে ফুল দিয়ে সাজানো প্রাইভেট কারে বাড়ি পৌঁছে দেন অতিথি বৃন্দ। এসময় বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা কান্না কন্ঠে হাত নাড়িয়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জাবায়।