পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মধ্য রাতে মোটরসাইকেলে শোডাউন দিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্যরা। এই নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা- সমালোচনা। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) মধ্যরাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে দলীয় স্লোগানসহ ‘ইউনুস হটাও, দেশ বাঁচাও’ ‘শাটডাউন সফল হোক’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে কারো চেহারা স্পষ্ট নয়। রাতে মিছিল বের করায় এবং ভিডিওতে থাকা সকলের চেহারা ঢাকা থাকায় তাই কোথায়, কখন, কারা এই শোডাউন দিয়েছিল সেটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত অন্তত তিনজন ইউপি চেয়ারম্যানও দিব্যি নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে দুইজন চেয়ারম্যান সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের নাম কোন মামলায় যেমন নেই তেমনি পুলিশের নজরদারির মধ্যেও নেই। এর পেছনেও রয়েছে ভোটের রাজনীতি। অপরজনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এখন জামিনে আছেন। তারাও এই সব মিছিল-মিটিং এ নিয়মিত অর্থ যোগান দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে দেবীগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা থাকলেও রাজনৈতিক নেতাদের ইশারা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করেনা পুলিশ ।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সুমন বলেন, গতকাল পৌর ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বিজয় চত্বর ও এর আশপাশে ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে। এর আগেও আমরা বারংবার পুলিশকে এই বিষয়ে জানিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশের সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, আমরা স্থানটি এখনো চিহ্নিত করতে পারিনি। আমাদের সোর্স মিছিলের স্থানটি এবং অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করতে চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)। গতকাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচির পর নতুন করে কর্মসূচি দেয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। সংগঠনটি ১৬ ও ১৭ নভেম্বর সারা দেশে সর্বাত্নক শাটডাউন কর্মসূচি দিয়েছে। সেই সাথে ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ কর্মসূচিও দেওয়া হয়।