বগুড়ায় বেকারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী শামিমা আক্তার (৩০) ও খালাতো ভাই বিপুল (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে।
গ্রেপ্তার শামিমা আক্তার বগুড়া সদর উপজেলার নূনগোলা ইউনিয়নের শাহীনুর রহমান তালুকদারের মেয়ে। অপর আসামি বিপুল একই ইউনিয়নের অন্তাহার গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়—পারিবারিক বিরোধ ও অবৈধ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে জহুরুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন রাতের কোনো এক সময় জহুরুলকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তার বাড়ির সামনে ধানক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।
সদর থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর মাহফুজ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে- শামীমা ও বিপুলের মধ্যে ছোটবেলা থেকে প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। এরমধ্যে জহুরুলের সাথে শামীমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ে হয়ে গেলেও শামীমা ও বিপুলের সম্পর্ক ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকে। বিষয়টি জহুরুল জানতে পারে এবং তা নিয়ে পারবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। ৩ নভেম্বর শামীমা ও বিপুল দু’জনে পরিকল্পনা করে জহুরুলকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে তারা সুখের সংসার করবে।
ওই দিন রাতে জহুরুলকে দুধের সাথে ১৫টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায় শামীমা। তারপর রাতে জহুরুল ঘুমিয়ে পড়লে তাকে বিপুল ঘাড়ে তুলে বাহিরে নিয়ে যায় এবং হত্যার পর তাকে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে ফেলে রাখে। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার পর নিহতের মামা এবং আসামি শামিমার বাবা শাহীনুর রহমান তালুকদার বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার দু’জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এর আগে বগুড়া সদর উপজেলার নূনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী তালুকদার পাড়া এলাকায় ধানক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।