শিরোনাম
ইন্টার্ণদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে রংপুরে পৃথক পৃথক কর্মসূচী পালন রংপুরে ক্লুলেস হত্যা মামলার প্রধান আসামী সবুজ গ্রেফতার রাজধানীতে শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন-সমাবেশ রংপুর নগরীতে টিসিবি উপকারভোগীদের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরণ রংপুরে দেশীয় অস্ত্র, মাদকসহ কারবারী গ্রেফতার রংপুরে আলোচিত গণধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেফতার রংপুর র‌্যাবের অভিযানে বিষ্ণুমূর্তিসহ চোরাচালানকারীর দুই সদস্য গ্রেফতার রংপুরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় টিসিএ মিডিয়াকাপ-২০২৬ শুরু
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

মধ্যরাতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে বিদ্যুতায়িত হয়ে কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু; দায় কার?

আবু সায়েম, স্টাফ রিপোর্টার / ৩৬৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

গত রাত ২ টার দিকে (২ নভেম্বর) রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। রোড ডিভাইডারে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে সিটি করপোরেশনের জুগি পাড়া নিবাসী বিমল নামে এক কিশোর। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের নগর কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীনতার এক করুণ পরিণতি। এই অকাল মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কতটা ব্যর্থ।

নিহত কিশোরের সেই রাস্তায় পড়ে থাকা নিথর দেহ আমাদের বিবেককে যেনো নাড়া দিয়ে যায়। কীভাবে একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে, যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করে, সেখানে বিদ্যুতের তার অরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারে? রোড ডিভাইডারগুলো সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য তৈরি করা হয়, পথচারীদের সুরক্ষার জন্য নয়। কিন্তু যখন সেই ডিভাইডারই মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে, এর দায় কার?

প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা এবং সিটি কর্পোরেশন একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু এই দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার দায়িত্ব হলো বিদ্যুতের লাইনগুলো সুরক্ষিত রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা। অন্যদিকে, সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব হলো নগরীর অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সকল প্রকার নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পথচারীদের মধ্যে অনেকেরই অভিযোগ, এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে বৈদ্যুতিক পিলার, ফুটওভার ব্রিজ এবং রোড ডিভাইডারগুলোতে অবৈধভাবে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুনের তারগুলো বিদ্যুতের মূল তারের সাথে সংযুক্ত হয়ে যাওয়া। পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অসাবধানতা চোখে পড়লেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

আমরা দেখেছি, প্রায়শই বিভিন্ন সড়কের পাশে বিদ্যুতের তার ঝুলে থাকতে বা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকতে। এই বিষয়গুলো বারবার কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এই উদাসীনতাই আজ একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিল।

এই ঘটনা কেবল একটি কিশোরের মৃত্যু নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

রংপুর সিটি কর্পোরেশন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে মনে রাখতে হবে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। আমরা আশা করি, এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসবে এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এই ঘটনায় শোকাহত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ