স্বামীর অকাল মৃত্যুতে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন আইরিন আক্তার প্রিয়া। তার বড় ছেলে ৫ বছরের আব্দুল্লাহ ও ছোট মেয়ে ৩ বছরের পারিসা দু’জনেই এখনো বুঝে উঠতে পারছে না, তাদের বাবা আবুল কালাম আজাদ আর এই পৃথিবীতে নেই।
মায়ের চোখের কান্না দেখেই তারা যেন বুঝে নিচ্ছে কিছু একটা ভয়াবহ ঘটেছে। শত মানুষের ভিড়েও তারা খুঁজছে তাদের বাবাকে যিনি আর কখনো কোলে নেবেন না, মুখে খাবার তুলে দেবেন না।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠী এলাকার মৃত আব্দুল জলিল চৌকিদারের ছেলে আবুল কালাম আজাদ স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি এজেন্সিতে চাকরি করতেন এবং নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে অর্থ পাঠাতেন।
দুপুর ১২টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে ফার্মগেট এলাকায় গেলে মেট্রোরেলের বেয়ারিং প্যাড খুলে তার উপর পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠায়।
স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে আইরিন আক্তার প্রিয়া এখন দিশেহারা। সরকারিভাবে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেই অর্থ এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ‘আমার হাজবেন্ড ছাড়া আমাদের এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই। ছোট ছোট বাচ্চাগুলো নিয়ে এখন কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি আমার স্বামীর মতো যেন আর কারো মৃত্যু না হয়।’
নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি বলেন, ‘সরকার পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। আবুল কালামের আয়ে পুরো পরিবার চলত। আমরা সরকারের কাছে অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করছি, যাতে তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়।’
আরেক আত্মীয় কাওসার আহম্মেদ বলেন, ‘মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অবহেলাতেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি চাই।’
ক্ষতিপূরণের বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি, তবে আমরা যোগাযোগ করে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব।’
এই দুর্ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীও। তারা বলেন, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে একটি পরিবার অন্ধকারে ডুবে গেছে। সরকার শুধু আশ্বাস নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে থেকে স্থায়ী সহায়তা দিক এটাই তাদের দাবি।