শিরোনাম
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পেল ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা রংপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার রংপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারী মৃত্যু মিঠাপুকুর ভুমি অফিসের ক্যাশিয়ারের তৌহিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সবচেয়ে জরুরী …. রংপুরে ত্রাণ মন্ত্রী দুলু রংপুরে তিস্তা নদীবেষ্টিত কর্মহীন ও দ্স্থু ৩’শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান রংপুরে সাংবাদিক হত্যা মামলায় এক আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন রংপুরে চার খুনের ঘটনায় তদন্তে আসা নানা প্রশ্নের জবাব পেশাদারিত্বের সাথে খুঁজছে পুলিশ এসপিজিআরসি’র নেতা এম নাসিম খানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরে নানা কর্মসূচী পালিত মাদকসেবনে বাঁধা দেয়ায় শিক্ষক গণপতিসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে একসঙ্গে নিখোঁজ ৩ মাদরাসাছাত্রী, ২১ দিনেও মেলেনি সন্ধান

স্থানীয় রিপোর্ট / ১৫২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ঠাকুরগাঁও শহরের দক্ষিণ সালন্দর এলাকার হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বালিকা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে তিন ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর কেটে গেছে ২১ দিন। এখনো তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। সন্তানদের খোঁজে অভিভাবকেরা থানা ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন।

আজ সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়টি জানান। এ সময় তাঁরা নিখোঁজ সন্তানদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ওই তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তাঁরা ওই মাদ্রাসার হাফিজি ও কিতাবি বিভাগের ছাত্রী।

নিখোঁজ এক ছাত্রীর মা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শেষবার মেয়েকে দেখেছিলাম নিখোঁজের আগের দিন। সে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল—‘মা, আমাকে বাড়ি নিয়ে যাও।’ আমি তাঁকে বুঝিয়ে রেখে এসেছিলাম। আজ ২১ দিন হয়ে গেল, কোনো খবর নেই। আমার বুক ফেটে যায়—সে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, তাও জানি না।’

আরেক ছাত্রীর মা বলেন, ‘৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষিকা ফোন দিয়ে জানালেন, আমার মেয়ে নেই। এর আগের দিন খাবারের জন্য বকাঝকা করেছিলেন তাঁকে। তারপর থেকে মেয়ের আর কোনো খবর পাইনি। রাত জেগে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি—হয়তো ফিরে আসবে।’

অপর ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমাদের ঘুম নেই, খাওয়া নেই। শুধু বুকফাটা কান্না। প্রতিদিন ভাবি আজ হয়তো খোঁজ পাব। কিন্তু প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরেও কোনো ফল নেই। আমরা শুধু চাই—ওরা জীবিত ফিরে আসুক।’

পরিবারগুলোর দাবি, ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও কোনো অগ্রগতি নেই। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এক অভিভাবক। সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে শেষ ভরসা হিসেবে এলাকাজুড়ে ছবি-সংবলিত বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়েছেন তাঁরা। এমনকি সন্ধানদাতাকে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিন শিক্ষার্থী পরিকল্পনা করে কাপড়চোপড়সহ চারটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেছে। এতে মাদ্রাসার কারও সংশ্লিষ্টতা নেই।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে—তিন ছাত্রী ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে অজানা গন্তব্যে যায়। তবে কমলাপুর ও এয়ারপোর্ট স্টেশনের ফুটেজেও তাঁদের খোঁজ মেলেনি। মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ নিয়ে ডিবির ওসি মামুন অর রশিদ বলেন, তদন্ত চলছে। ইতিবাচক কিছু পাওয়া গেলে আপনাদের জানানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ