গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পারিবারিক কলহের এক মর্মান্তিক চিত্র ফুটে উঠেছে। পরকীয়ার জেরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যাওয়ায় এবং শ্বশুর সেই স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে অস্বীকৃতি জানানোয়, অভিমানী এক যুবক নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ধুপাডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুনবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ যুবকের নাম রায়হান মিয়া, তিনি ওই এলাকার চান মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পরিবারের সম্মতিতে বড় দিঘিরপার গ্রামের আদুরী বেগমকে বিয়ে করেন রায়হান। তাদের সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে সম্প্রতি রায়হান পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে সুখের সংসারে অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠে। স্বামীর এ সম্পর্ক মানতে না পেরে আদুরী বেগম তার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানান। কিন্তু তারা কোনো সমাধান না করায় প্রায় এক মাস আগে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান আদুরী।
এরপর থেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে রায়হান বেশ কয়েকবার শ্বশুরবাড়ি গেলেও আদুরী আর স্বামীর সংসারে ফিরতে রাজি হননি। এমতাবস্থায়, রায়হান তার বাবা চান মিয়াকে অনুরোধ করেন স্ত্রীকে বুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন্তু বাবা সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভে ও অভিমানে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রায়হান।
তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নিভিয়ে ফেললেও, ততক্ষণে শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. হাকিম আজাদ জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।