শিরোনাম
রংপুরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় টিসিএ মিডিয়াকাপ-২০২৬ শুরু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | |Katha24.com || Katha Media বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী রংপুরে নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদে আজ পাস হলো ২৪টি বিল, চলতি অধিবেশনে মোট ৯১টি বিল অনুমোদিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের নারী সাংবাদিকদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নির্বাচন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন … রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডন রংপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, বৃদ্ধ ও কিশোরীসহ আহত অনেকে মিঠাপুকুরে বসতভিটায় হামলা: গাছ কেটে লাখ টাকার ক্ষতি, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রংপুরে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

শরতে তেঁতুলিয়া থেকে চোখে পড়ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা; বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়

স্থানীয় রিপোর্ট / ১৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ছোট্ট উপজেলা তেঁতুলিয়া। প্রতি শীত মৌসুমের আগে এখানে মেঘমুক্ত আকাশে মানুষ প্রত্যক্ষ করেন প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য। শরতের এই সময়েই ভোরের কুয়াশা, ধূলিকণা আর মেঘমুক্ত আকাশের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে সাদা বরফে ঢাকা বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা।

নেপাল, ভুটান ও ভারতের সিকিমের আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় আট হাজার ৫৮৬ মিটার উঁচু পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। সীমান্তবর্তী হওয়ায় তেঁতুলিয়া থেকে শরৎকালে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। প্রতি বছরই সে কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখতে তেঁতুলিয়ায় দেশীয় পর্যটক ভিড় করেন। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি।

গত শুক্রবার ভোরে তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলো এলাকার মহানন্দার পাড়ে সরেজমিন ঘুরে অসংখ্য দেশীয় পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। আশ্বিনের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্নিগ্ধ সকালে উত্তর-পুবাকাশে সেদিন জেগে উঠেছিল নয়নাভিরাম কাঞ্চনজঙ্ঘা। সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত সেদিন দেখা মিলেছিল এই পর্বতচূড়ার।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবি রূপ যেন ক্ষণে ক্ষণে বদলে যায়। রোদে ডুবে কখনও সে সোনালি আভা ছড়িয়ে জেগে থাকে। আবার কখনও শ্বেতশুভ্র আর রুপালি বর্ণে ধরা দেয়। আবার সন্ধ্যার আগে কখনও বরফে মোড়া চূড়া লালচে আভায় ঝলমল করে। সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করে কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলঘেঁষে পরিষ্কার দেখা যাওয়া ছায়া সবুজ দার্জেলিং ও কারশিয়াং পাহাড়। এ দৃশ্য দেখতে শত শত পর্যটক ভোর থেকেই অবস্থান নেন তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন ভিউ পয়েন্টে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত, খোলা মাঠে দাঁড়িয়েও পর্যটকরা কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন নয়, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই তেঁতুলিয়ায় বছরজুড়ে এখন পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে। তিন দিকে ভারতীয় সীমান্তঘেরা তেঁতুলিয়ার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলা। উত্তর-পূর্বে কুচবিহার ও দার্জেলিং পাহাড় এবং পশ্চিমে জলপাইগুড়ি। পূর্বে পঞ্চগড়ের উপজেলা সদর। সীমান্তঘেঁষা এই জনপদকে ঘিরে রয়েছে মহানন্দা, করতোয়া, চাওয়াইসহ অসংখ্য ছোট-বড় নদী। এসব নদী ও সবুজ নিভৃত জনপদের সৌন্দর্যও পর্যটকদের সমানভাবে আকর্ষণ করে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুরমারি, মুহুরিজোত, ডাকবাংলো, মহানন্দার পাড়, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, তেঁতুলিয়ার পুরাতন বাজার এলাকাকে বলা হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আদর্শ স্থান।

মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তেঁতুলিয়ার উত্তর আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। কারণ বর্ষা শেষে এবং শীতের আগে এখানকার আকাশ মেঘ ও কুয়াশামুক্ত থাকে। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কুয়াশা পড়া শুরু হলে কাঞ্চনজঙ্ঘা উধাও হয়ে যায়। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এখানে তীব্র শীত থাকে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যায় ৪ থেকে ৫ ডিগ্রিতে, যা দেশের সর্বনিম্ন হিসেবে রেকর্ড হয় প্রায় প্রতিবছর।

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা একজনের সাথে, তিনি বলেন, ‘স্বামীর চাকরির সুযোগে খুব অল্প সময়ের জন্য এসেছি। তেঁতুলিয়ার মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পেয়েছি। আমি অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু এত কাছে দাঁড়িয়ে এত সুন্দরভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাবে, কল্পনাও করিনি।

স্থানীয় অর্থনীতে পর্যটনের প্রভাব

পঞ্চগড়সহ তেঁতুলিয়াজুড়ে প্রতিনিয়ত পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তেঁতুলিয়ায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট হোটেল, রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান। পরিবহনকর্মীরাও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকেরা মৌসুমি ফল, শাকসবজি কিংবা চা বিক্রি করে ভালো লাভ করছেন। তেঁতুলিয়ার বিখ্যাত চা বাগানের তাজা চা পাতা কিনে নেন পর্যটকরা। কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও তেঁতুলিয়ায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা বিশেষ করে সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, কাজী অ্যান্ড কাজীর আনন্দধারা, ডাহুক ব্রিজ ঘুরে দেখেন।

অটোরিকশা বা ভ্যানচালকরা পর্যটকদের ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়ায় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখান। তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর থেকে কাছাকাছি অবস্থানে ভারত-বাংলা বাজার, বিখ্যাত নলা বাঁশবাগান, নেপালি ও থাইল্যান্ড বাঁশবাগান, ঐতিহাসিক বড় বিল্লা, কলকাতা রোড, বড় আকারের চা বাগান ঘুরে দেখান। এছাড়া জেলায় রয়েছে নানান দর্শনীয় স্থান। বিশেষ করে ভিতরগড় দুর্গনগরী, মহারাজা দিঘি, জেলা শহরের পাথরের জাদুঘর, মোগল স্থাপনা মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বদেশ্বরী পীঠ মন্দিরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।

যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুর এবং সেখান থেকে পঞ্চগড় জেলা শহর হয়ে সহজে বাস, মাইক্রোবাস অথবা ব্যক্তিগত যানবাহনে তেঁতুলিয়া আসা যায়। পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে তেঁতুলিয়ার ভাড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি পঞ্চগড় কিংবা তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির বাস সার্ভিস আছে। ভাড়া এক হাজার পাঁচশ (নন এসি) থেকে দুই হাজার (এসি) পর্যন্ত। তেঁতুলিয়া উপজেলা শহর থেকে হাঁটা পথেই যাওয়া যায় মহানন্দার পাড়, যেখান থেকে পর্যটকরা কাঞ্চনজঙ্ঘা উপভোগ করতে পারেন।

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এবং বেরং কমপ্লেক্সে ন্যূনতম এক হাজার টাকা ভাড়ায় রাত্রিযাপন করা যায়। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য, জেলা মডেল থানা, বন বিভাগ, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গেস্ট হাউসে স্বল্পমূল্যে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব গেস্ট হাউসে ৫০০ থেকে হাজার টাকায় একটি কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায়।

এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে মহানন্দা কটেজ, দোয়েল আবাসিক, হিমালয় গেস্ট হাউস, স্বপ্ন গেস্ট হাউস, হোটেল সীমান্তের পাড়, কাঞ্চনজঙ্ঘা আবাসিক, স্কয়ার আবাসিক, কাজী ব্রাদার্সসহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় কক্ষ ভাড়া নিতে পারেন। বিলাসবহুল এসি রুম পাওয়া যায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়।

তেঁতুলিয়া ট্যুরিস্ট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাব্বুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছি। এখানকার মানুষ এমনিতেই শান্ত প্রকৃতির। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো।’

জেলা প্রশাসক সাবেত আলী বলেন, ‘ভৌগোলিক কারণে পঞ্চগড় জেলাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। শরতে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম রূপ কাছ থেকে দেখতে এখানে অসংখ্য মানুষ আসেন। এখানে পর্যটনের একটি মডেল গড়ে তোলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ