বগুড়ায় এক মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন সদর উপজেলার মালতিনগর (মাটির মসজিদ সংলগ্ন) তাহযিবুল বানাত মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক আজাদী (৪২)। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার মিনিগাড়ী গ্রামের ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী প্রায় দুই বছর ধরে তাহযিবুল বানাত মহিলা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছিলেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত পরিচালকের মেয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠায় প্রায়ই ওই শিক্ষকের বাসায় যাতায়াত করতেন তিনি। এ কারণে শিক্ষকের স্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়ে নানা অপবাদ রটাতে থাকেন। এর জেরে প্রধান শিক্ষক তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করেন।
পরে শিক্ষার্থীটি মালতিনগর মাটির মসজিদ লেনে খালার বাড়িতে ওঠেন। অভিযোগকারীর দাবি, এরপর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার সহযোগীরা নিয়মিত তাকে হুমকি দিতে থাকেন। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট সকাল ১০টা ৪১ মিনিটে সহযোগী কনক (৩৫) মোবাইল ফোনে কল করে মাদ্রাসা ত্যাগ করতে বলেন এবং বগুড়া না ছাড়লে হত্যার হুমকি দেন। ভুক্তভোগীর দাবি, এ ঘটনার অডিও রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা শুধু তাকেই নয়, তার পরিবারকেও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে তিনি আর কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি হতে পারছেন না এবং নিরাপদে চলাফেরাও করতে পারছেন না। ইতোমধ্যে তিনি থানায় দুইবার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “আমি দুইবার থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু পুলিশ পরিচালকের পক্ষ নিয়েছে। এখন ভয়ে বাইরে বের হতে পারছি না, লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে। আমি বিচার চাই। এতোদিন ভয়ে চুপ ছিলাম, এখন সাহায্যের জন্য সাংবাদিকদের কাছে যাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই সরওয়ার বলেন, “আমি অভিযোগ পেয়েছিলাম। তবে অভিযুক্তও পাল্টা অভিযোগ করায় থানার ইন্সপেক্টর নিজেই উভয় অভিযোগ তদন্ত করেছেন।”
অভিযুক্ত পরিচালক আমিনুল হক আজাদী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার নামে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই মেয়ে অপরাধ করায় আমি তাকে শাসন করেছিলাম। এজন্যই সে মিথ্যা অভিযোগ করছে। এই সংবাদ প্রকাশ হলে আমার মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট হবে।”
বগুড়া সদর থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর মাহফুজ আলম বলেন, “ওই শিক্ষক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে আমি বাদী ও বিবাদীকে বসিয়ে সমাধান করে দিয়েছিলাম। তবে এখন মামলার অগ্রগতি কী অবস্থায় আছে তা বলতে পারছি না।”