বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের বেতুয়ারকান্দী গ্রামের হাফিজুর রহমান ওরফে ঢোরা’র ছেলে, উপ-সচিব আবু নাসার উদ্দিনের ছোট ভাই ঠিকাদার হাসিবুর রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে রয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আন্দোল করায় তার বাড়িতে তাকে গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন সময়ে পুলিশ পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।
সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদদের কবর নিয়ে অনিয়ম অনুসন্ধান করতে গেলে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেন রাসেল। এছাড়া দুর্গাহাটা ব্রিজ থেকে বেতুয়ারকান্দী ব্রিজ সংযোগ সড়কের কাজে শিলদহবাড়ী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আমিরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদার হাসিবুর রহমান রাসেলের বিরুদ্ধে।
আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমার জায়গার উপর দিয়েই রাস্তা নির্মাণ হয়। ঘরের পাশে বালু রাখায় বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ছিল। বালু সরাতে বলায় ঠিকাদার রাসেল আমাকে মারধর করেন। মামলা করতে চাইলে নানা হুমকি দেন। পরে স্থানীয়রা মিমাংসা করেন এবং তিনি ক্ষমা চান। ক্ষমা করা মহৎ কাজ ভেবে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম।”
অভিযোগ রয়েছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার ছাইহাটা গ্রামের রবিন আকন্দ বেতুয়ারকান্দীতে বাড়ি করতে গেলে তাতেও বাধা দেন ঠিকাদার রাসেল। সড়ক নির্মাণকাজের ইট চুরির অভিযোগ তুলে রবিন আকন্দকে মারধর করেন ঠিকাদার হাসিবুর রহমান রাসেল। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রবিন আকন্দের স্ত্রী সৃষ্টি বেগম।
জুলাই আন্দোলনে আন্দোলনকারী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বগুড়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সৈকত আলী বলেন, হাসিবুর রহমান রাসেল কোটা সংস্কার আন্দোলন করায় আমাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে, সে আন্দোলনে রাজাকারের ভূমিকা পালন করেছে। ২৪ এর ৫ আগস্টের পড় ওই এলাকায় রাসেল ও তার ভাই উপ-সচিব এর করা অপরাধের এলাকার সাধারণ মানুষ তালিকা করছিলো। ওই তালিকায় আমার পরিবারের নাম থাকার জন্য আমার পিতাকেও সে মারধর করতে এসেছিলো। উপ-সচিব এর জন্য এলাকার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠাই না। আমি শুনেছি রাসেল মাদকাসক্ত ও নারী লোভি, তার ভাই উপ-সচিব হওয়ায় বার বার বেচে যাচ্ছে। রাসেলের বাবাও আওয়ামী লীগ করতো, তার ভাই উপ-সচিব আওয়ামী লীগ কোটাতেই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছে। এই রাসেল ও তার ভাই উপ-সচিব এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ পুরো এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ঠিকাদার হাসিবুর রহমান রাসেল বলেন, আমি কখনো ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলাম না। এবং আমি কখনো কোন নির্বাচনের প্রচারণা করিনি। এই সব বানানো মিথ্যা বানোয়াট। আমি আমার ভাই উপ-সচিবের নামও কখনো ভাঙ্গাইনি।
সকল বিষয় নিয়ে ঠিকাদার হাসিবুর রহমান রাসেলের বড় ভাই, বাংলাদেশ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ শাখার দায়িত্বে থাকা উপ-সচিব আবু নাসার উদ্দিনের সরকারি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নাই।