প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে শত শত শিক্ষক তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে স্লোগান দেন। এই আন্দোলন শুধু বেতন বৃদ্ধির দাবি নয়, বরং দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি যাঁরা, সেই শিক্ষকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক করুণ চিত্র তুলে ধরছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের মধ্যে একজন শিক্ষিকার কথা উঠে এসেছে, তিনি বলেন, “আজ থেকে ২০ বছর আগে ফার্মের মুরগি কিনেছিলাম। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আর মুরগি কিনতে পারিনি, অথচ আমি একজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক।” এই একটি বাক্যই প্রাথমিক শিক্ষকদের আর্থিক সংকটের গভীরতা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।
আরেকজন আন্দোলনকারী শিক্ষক জানান, “আমরা শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা চাই, বাঁচার মতো বেতন চাই। আমরা কি মানুষ নই? আমাদেরও তো পরিবার আছে, তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়।” তাঁদের এই আকুতি প্রমাণ করে যে, বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে তাঁদের সংসার চালানো কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে শনিবার (৮ নভেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। ওইদিন পুলিশি নির্যাতনের পর রবিবার (৯ নভেম্বর) থেকে সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা। একসঙ্গে চলতে থাকে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি এবং সারা দেশে শিক্ষকদের কর্মবিরতি।
আবু সায়েম/ডিআরবি