শিরোনাম
দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে রংপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পেল ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা রংপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার রংপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারী মৃত্যু মিঠাপুকুর ভুমি অফিসের ক্যাশিয়ারের তৌহিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সবচেয়ে জরুরী …. রংপুরে ত্রাণ মন্ত্রী দুলু রংপুরে তিস্তা নদীবেষ্টিত কর্মহীন ও দ্স্থু ৩’শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান রংপুরে সাংবাদিক হত্যা মামলায় এক আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন রংপুরে চার খুনের ঘটনায় তদন্তে আসা নানা প্রশ্নের জবাব পেশাদারিত্বের সাথে খুঁজছে পুলিশ
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

আমার স্বামীর গুলি লাগছে, দুইটা ছাওয়াক ধরি কীভাবে খাব?’

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর / ২৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

জেসমিন আক্তারের কোলে দেড় মাসের শিশু; দুই বছরের আরেক শিশু শ্বশুরের কাছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ স্বামী শাহীন আলমের শয্যার পাশে বসে আছেন জেসমিন। স্বামীর যন্ত্রণাভরা নিশ্বাসে কাঁপছে তাঁর বুক। দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা জেসমিনের চোখেমুখে। এমন চিত্র দেখা গেল রমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।

জেসমিন আক্তার বলেন, ‘সকালে বাড়ি থাকি ইপিজেডের কোম্পানিতে ডিউটিত গেইছে। যাওয়ার পথে গুলি লাগছে। গুলি লাগি পড়ি গেইছে। নীলফামারী মেডিকেল নিগাইছে। ওটে থাকি রংপুর পাঠাইছে। এটে চিকিৎসা চলোছে। আমার স্বামীর গুলি লাগছে, দুইটা ছাওয়াক ধরি কীভাবে খাব? চাকরি করে, ওই টাকা দিয়া ছাওয়া ছোটক ধরি চলি। এখন আমরা কীভাবে খাব ছাওয়া দুইটাক ধরি?’

শাহীন আলম নীলফামারীর চংড়া কিসামতডাঙ্গী তেলিপাড়া গ্রামের দিনমজুর রজব আলীর ছেলে। তিনি নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে দেশবন্ধু পোশাক কারখানার শ্রমিক। প্রতিদিনের মতো গতকাল মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) কাজে গেলে এভারগ্রিন কোম্পানির শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন।

আজ বিকেলে রমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন শাহীন। পাশে স্ত্রী, বাবা ও স্বজনেরা। একই ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি আছেন ম্যাজেন বিডি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শ্রমিক শামীম হোসেনও। তাঁর ভাই ইমরান জানান, গুলি তাঁর ভাইয়ের বাম পায়ের মাংসপেশি ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। শামীম হোসেনের বাড়ি নীলফামারীর সোনারায়। তিনিও কাজের উদ্দেশে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন বলে জানান।

একপর্যায়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহীন আলম বলেন, ‘অফিস টাইম, গেটে গেছি, যাইতে দিবে না। সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক সময় কথা-কাটাকাটি, ঢিল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়া গেইছে। ইটপাটকেল মারতে মারতে সেনাবাহিনী গুলি ছুড়ছে। গুলি ছোড়ার পর পাশে বন্ধু ছিল; ওরে গুলি লাগছে। পাশে আরেকজন ছিল তাঁর বুকে গুলি লাগছে, মারা গেইছে। আমার ঊরুতে গুলি লাগছে। অপারেশন হইছে; এখনো গুলি বের করার পারে নাই। যতবার অপারেশন করোছে, ততবার আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে ডাবল করা লাগছে। এখনো গুলি আটকা, ব্যথায় শরীর খারাপ।’

শাহীনের বাবা রজব আলী বলেন, ‘আমার জমিজমা নাই। দুই ছেলে, শাহীন ইপিজেট করে বউ-ছাওয়া নিয়া আলাদা খায়। ওটে যে টাকা পায় তাকে দিয়া কোনো রকম পরিবার চলে। ওয় এখন গুলি খায়া হাসপাতালোত, ওর সংসার কায় চালাইবে? ছোট ছাওয়া দুইটাক কায় দেখবে?’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ ও আহত রোগীর বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এ বিষয়ে সঠিক জানা নেই। আপনি ওয়ার্ড মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে রমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহাবুব হোসেন মানিক বলেন, ‘তিনজন শ্রমিক ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে নুরনবী নামের একজন রাতেই চলে গেছেন। বাকি দুজন—শাহীন আলম ও শামীম হোসেনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁরা এখন ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আছেন। একই ঘটনায় আহত পুলিশের এসআই ফয়জুল ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি।’

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের এভারগ্রিন কোম্পানির কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকেরা ২৩ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে নিহত হন ইকু ইন্টারন্যাশনাল নিটিংয়ের শ্রমিক হাবিব ইসলাম (২০)। আহত হন অন্তত ১০ জন শ্রমিক, গুরুতর তিনজনকে রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ