পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছে। হাসপাতালটির অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা মাত্র ১০০ হলেও প্রতিদিন সেখানে তিনগুণ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। ফলে হাসপাতালের করিডোর, বারান্দা এমনকি মেঝেতেও রোগীদের ভর্তি থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও সেবিকা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার মানও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের পাশাপাশি স্বজনরাও দুঃসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আসন সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের বারান্দা, করিডোর ও মেঝেতেও রাখতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। ফলে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সঠিকভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
অবাক করার বিষয় হচ্ছে—হাসপাতালের ঠিক পাশেই দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুত হয়ে পড়ে আছে ২৫০ শয্যার নতুন ভবন। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এ ভবনটি চালু হলে রোগীর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে। কিন্তু কোন রহস্যজনক কারণে ভবনটি এখনো চালু হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ করেছে। কিন্তু তা চালু না হওয়ায় জনগণের অর্থ যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি মানুষ চিকিৎসা সংকটে ভুগছে।’’ তারা অবিলম্বে ২৫০ শয্যার ভবনটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারের স্বদিচ্ছার অভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ভবনটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। পঞ্চগড়ের মতো সীমান্তবর্তী জেলার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার এই সংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু শয্যা ও অবকাঠামো সংকটের কারণে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভবনটি চালু হলে এই সমস্যা অনেকটাই লাঘব হবে।”
২৫০ শয্যার ভবনটির বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান জানান “প্রয়োজনীয় জনবল , ডায়াগনোসিসের জন্য মেশিন এবং আসবাবপত্র না থাকায় ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।” আপাতত চালুর কোন সম্ভাবনা কিংবা নির্দেশনা রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে উত্তরে তিনি জানান “আপাতত চালুর কোন নির্দেশনা নেই।”
স্থানীয়দের মতে, অবিলম্বে নতুন ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবন চালু করা হলে রোগীরা স্বস্তি পাবে এবং চিকিৎসাসেবার মানও উন্নত হবে। তা না হলে বর্তমান পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।