পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জের ধরে নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এর পর ফের দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকটি কক্ষের জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাঁচ দফা দাবিতে নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে পৌর শহরের চৌরাস্তায় সড়ক অবরোধ করে। প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর সেনাবাহিনী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন এবং বিদ্যালয়ে ফেরত পাঠান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ইউএনওর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।
অবরোধ প্রত্যাহারের পর দুপুর একটার দিকে ফেরার পথে কিছু শিক্ষার্থী দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিকে ছুটে যায়। এ সময় টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা তাদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এসে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সময় নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি ছিল। শিক্ষকসহ ইউনিফর্ম পরিহিত ছাত্ররা এসময় নিজেদের বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিল।
এদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতার কারণেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তারা জানান, খেলার প্রথম থেকেই বিভিন্ন ধরনের অব্যবস্থাপনা ছিলো কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এগুলোর সুরাহা করেন নি। এছাড়া মঙ্গলবারের সংঘর্ষে ১৭ জন আহত হলেও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এই ঘটনার পর দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবিরকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ তনবিরুজ্জামান রুবেল ও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইন্সট্রাক্টর মোঃ আব্দুল আজিজকে সদস্য রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা এই ঘটনার অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা প্রতিবেদন দিলে সেই আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে শিক্ষকসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে তিন জন রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই দেবীগঞ্জে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী অবস্থান করছে।