শিরোনাম
রংপুরে নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানজিদার লাশ উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় নারীসহ গুরুতর আহত ৫ রংপুরে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে চাষীদের বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ রংপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু হোটেল কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মালিক মিঠাপুকুরে মিশুক ছিনতাইকারী নারী আটক ব্র্যাক সীডের উদ্যোগে টেকসই ও নিরাপদ কৃষি কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইন্টার্ণদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

সুদের টাকা আদায়ের জন্য লাশ আটকে রাখলেন সুদি কারবারি

ডেস্ক রিপোর্ট / ২২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামে ঘটেছে চরম হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। লাশ আটকে রেখে আদায় করা হয়েছে সুদের টাকা। বিষয়টি শুধু স্থানীয়দেরই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অসংখ্য মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। চারদিকে উঠেছে নিন্দার ঝড়।

গ্রামের নতুনপাড়ার নিয়ামত আলীর ছেলে রাজমিস্ত্রি হারুন মারা গেলে ওই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসীর ক্ষোভের আঁচ পেয়ে সুদ কারবারি মর্জিনা পালিয়ে যায়। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মেয়ের বাড়ি মেহেরপুরের মহাজনপুরে বেড়াতে যান রাজমিস্ত্রি হারুন (৪৫)। রোববার সকালে হঠাৎ স্ট্রোক করে মৃত্যু হয় তার। পরে লাশ দামুড়হুদার নিজ গ্রামে আনা হলে আছরের নামাজের পর দাফনের প্রস্তুতি চলছিল, তখন ঘটে এই অমানবিক ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, লাশ গোসলের সময় প্রতিবেশী প্রয়াত মোহন আলীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন দাবি তোলেন হারুনের কাছে তিনি সুদের ১৫ হাজার টাকা পাবেন। ওই টাকা পরিশোধ না করলে লাশ দাফন করতে দেওয়া হবে না। শোকাহত পরিবার লাশ পাশে রেখে টাকার জন্য বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। আশেপাশের মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়ে এমন ঘটনায়। অবশেষে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিবার বাধ্য হয়ে টাকা মিটিয়ে দেয়। টাকা হাতে পেয়ে মর্জিনা স্থানীয়দের ক্ষোভ ও জনরোষের মুখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা। মারা যাওয়া হারুনের চাচাতো ভাই মতিনুর ইসলাম মানিক বলেন, আমার ভাই গত দেড় মাস আগে মর্জিনা খাতুনের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা তিনি ব্যবসায় কাজে লাগিয়েছিলেন। রোববার সকালে লাশ গোসলের সময় মর্জিনা দাবি করেন ২২ হাজার টাকা সুদের টাকা পাবেন। দাফন শেষে এ বিষয়টি মিটমাট করা হবে জানালে মর্জিনা দাবি করেন টাকা না পেলে লাশ দাফন করতে দেবে না। হারুনের পরিবার জানায়, আমরা একটি গরু তার বাড়িতে রেখে আসতে চেয়েছিলাম। পরে নগদ টাকা দিয়ে গরুটা নিয়ে আসব। কিন্তু তাতেও তিনি রাজি হননি। পরে ২২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন মর্জিনা খাতুন। এরপরই পরিবারের সদস্যরা ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে লাশের খাটিয়ার ওপর রাখেন। পরে সেই টাকা মর্জিনা খাতুন নিয়ে চলে যান।

এলাকাবাসী জানায়, মর্জিনা খাতুন এলাকার কজন বড় সুদি কারবারি। গ্রামের মানুষকে তিনি ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দেয়। তাই কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মূল টাকা হারুন জীবিত থাকতেই পরিশোধ করেছিলেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ আটকে রেখে সুদের টাকা আদায় করা সমাজের চোখে ন্যাক্কারজনক, ঘৃণিত ও লজ্জাজনক কাজ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসা করে আসছেন। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেও হয়রানি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ