আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনপির ফাঁকা রাখা আসনে লড়াই জমে উঠছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মওলানা আব্দুস সাত্তারের বিপক্ষে এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ও কলামিস্ট রাশেদুজ্জামান রাশেদ (মো. রাশেদ ইসলাম)।
গতকাল সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওন এবং জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আসিফ ইকবাল মাহমুদ।
রাশেদ জানান, দলের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে। তিনি বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার নয়, সেবার জায়গা। ডোমার ও ডিমলার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য দূর করে একটি স্বনির্ভর অঞ্চল গড়ে তুলতে চাই।”
দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় সমাজসেবা, শিক্ষা সহায়তা ও যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি একজন কলামিস্ট ও সচেতন নাগরিক হিসেবেও এলাকায় ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন।
সূত্র জানায়, এনসিপি ৬ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে, যা চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ফরমের দাম ১০ হাজার টাকা, তবে জুলাই আহত ও নিম্ন আয়ের ব্যক্তিরা ২ হাজার টাকায় ফরম নিতে পারছেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করলেও নীলফামারীর দুটি আসন—নীলফামারী-১ ও নীলফামারী-৩—ফাঁকা রেখেছে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা, বিএনপি-এনসিপি আসন সমঝোতার অংশ হিসেবেই এই দুটি আসন খালি রাখা হয়েছে।
এদিকে নীলফামারী-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মওলানা আব্দুস সাত্তার ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। বিএনপির সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন ও আহম্মেদ বাকের বিল্লাহ মুনও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বিএনপির ফাঁকা রাখা আসনে এবার ভোটযুদ্ধ হতে পারে বহুপ্রার্থী নিয়ে।