শিরোনাম
দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে রংপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পেল ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা রংপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার রংপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারী মৃত্যু মিঠাপুকুর ভুমি অফিসের ক্যাশিয়ারের তৌহিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সবচেয়ে জরুরী …. রংপুরে ত্রাণ মন্ত্রী দুলু রংপুরে তিস্তা নদীবেষ্টিত কর্মহীন ও দ্স্থু ৩’শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান রংপুরে সাংবাদিক হত্যা মামলায় এক আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন রংপুরে চার খুনের ঘটনায় তদন্তে আসা নানা প্রশ্নের জবাব পেশাদারিত্বের সাথে খুঁজছে পুলিশ
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন

পাঠ্যবইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবে এনসিটিবির ‌‘না’, হবে সংক্ষেপন

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৭৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবই থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে পূর্ণাঙ্গ ভাষণের পরিবর্তে সংক্ষেপিত রূপ শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (১৮ আগস্ট) এনসিটিবি কার্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক অনুমোদন নিয়ে আয়োজিত সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। যদিও এর আগে ৮ম শ্রেণির বই থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালিত পুস্তক পর্যালোচনাকারী শ্রেণি শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়াও সভায় জুলাই আন্দোলন নিয়ে লিখিত ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ প্রবন্ধে খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি গণহত্যার ইতিহাস থেকে ‘সুকৌশলে’ শেখ হাসিনার নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন প্রস্তাবকারী।

এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শ্রেণি শিক্ষকদের পরামর্শে প্রাথমিকভাবে ভাষণটি পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বৈঠকে থাকা শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যপুস্তক থেকে সরানোর বিপক্ষে অবস্থান নেন। বিষয়টি নিয়ে সভায় উচ্চবাচ্য বিনিময় হলেও আলোচনার পর ৮ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন ভাষণের মূল চেতনা ও বার্তা অক্ষুণ্ন রেখে নির্বাচিত অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘৮ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল। এটি সংক্ষিপ্ত আকারে রাখা হবে। একাদশ শ্রেণির বইয়ের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার প্রযোজ্য হবে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা উপদেষ্টা জানাবেন।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ৭ মার্চের ভাষণ বইয়ে রাখার পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। তারা এ ভাষণকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে পাঠ্যবইয়ে রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অপর একটি পক্ষ বিরোধীতা করলেও সেটি টেকেনি। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য বিনিময় হয়। পরবর্তীতে ৮ম শ্রেণির বইয়ে ভাষণ সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এনসিটিবির শীর্ষ এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে হট্টগোল হয়েছে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকসহ অনেকেই এটিকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বইয়ে রেখে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে তারা এটিকে সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যবইয়ে থেকে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনার নাম গোপনের চেষ্টা

নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য অংশে অন্তর্ভুক্ত ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ গদ্যটি নিয়ে সংশোধন ও পরিমার্জনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবকারী মনে করছেন, গদ্যটিতে সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম কৌশলে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ প্রবন্ধে জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ করেছেন সংশোধনের প্রস্তাবকারী। প্রস্তাবকারীর মতে, এতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও বাস্তব চিত্র বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অপরাধী ও অনুঘটকদের নাম ও কার্যকলাপ চতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। গদ্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দ পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন প্রস্তাবকারী। যেমন—‘শাসক’, ‘দুর্বৃত্তবাহিনী’, ‘তার আছে দলীয় বাহিনী’ এবং ‘আন্দোলনকারী ছাত্র জনতা’ শব্দগুলোর পরিবর্তে যথাক্রমে ‘স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা’, ‘আওয়ামী লীগ’ এবং ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী’ ব্যবহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অভিযোগকারী বলছেন, বিস্ময়কর মুন্সিয়ানায় রচনাটিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সুকৌশলে গোপন করা হয়েছে। এই রচনা পড়ে একদমই বোঝার উপায় নেই যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল শতাব্দীর ঘৃণ্যতর ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। অধিকন্তু এতে জুলাইয়ের খণ্ডিত চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষত ফ্যাসিবাদী সরকারের নৃশংসতা, মানুষের বিস্ময়কর বিস্ফোরণ ও অনন্য বৈপ্লবিক মুহূর্তের ঝাঁজ রচনাটিতে পুরোমাত্রায় অনুপস্থিত। এর সাহিত্যমানও যথেষ্ট লঘু।

বেশি পরিবর্তনের প্রস্তাব নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে

এনসিটিবিতে আয়োজিত পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের সভার চেকলিস্ট ঘেঁটে দেখা গেছে, ৮ম শ্রেণির বইয়ে ৭ মার্চের ভাষণ ছাড়াও হুমায়ুন আজাদ, আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মতো বিতর্কিত লেখকদের লেখা পর্যালোচনার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে।

একই বইয়ের ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ এই নাটকের চেয়ে সাবলীল শুদ্ধ ও রুচিশীল এবং ভাষাতাত্ত্বিক অনেক ভালো নাটক আছে সেগুলোকে এখানে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অশ্রাব্য এবং কটু ভাষা, বাক্যের জন্য এটাকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নাটকটির সংলাপে বেশ কিছু গালি ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি স্বভাবতই অস্বস্তি তৈরি করবে। উপরন্তু নাটকটি সাহিত্যিক মানদণ্ডে অদ্বিতীয় মূল্য ও তাৎপর্য বহন করে না বলে জানিয়েছেন প্রস্তাবকারী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ