শিরোনাম
বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘাত এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে প্রশাসনের আবেদন বহুল প্রত্যাশিত কারমাইকেল কলেজের মূল ফটক নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবার পেল বিআরটিএ’র ১ কোটি ৩ লাখ টাকা জমি বিরোধের জেরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রংপুরে ১’শ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার …. রংপুরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী রংপুর নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করতে ভাঙা সড়ক সংস্কার কাজ শুরু রংপুরে সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ..রংপুরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল রংপুরে বস্তাবন্দী অবস্থায় নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

পঞ্চগড় সীমান্তে পুশ ইন করা ২১ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর

ডেস্ক নিউজ : / ১৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫

ভারতের গুজরাট রাজ্যের বিভিন্ন বস্তি থেকে তুলে এনে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে পুশ ইন করা ২১ বাংলাদেশি নাগরিককে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) বিকেলে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ডোলোপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় তাদের তুলে দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন।

এসময় পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান ও হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই আলম উপস্থিত ছিলেন।

পুশইন হওয়া নারী রোজি আক্তার বলেন, আমরা দশ বছর ধরে গুজরাটে থাকতাম। হঠাৎ ১৫-২০ জন পুলিশ এসে আমাদের নিয়ে যায়। এরপর বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে আসে। পরে বাসে করে বিএসএফ বড়বাড়ি সীমান্তে দিয়ে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়।

আলেয়া বেগম নামে আরেক নারী বলেন, আমরা গরিব মানুষ, পেটের দায়ে ইন্ডিয়া গেছিলাম। গত ২১ মে ভারতীয় পুলিশ আমাদের গুজরাট এলাকা থেকে আটক করে উড়োজাহাজে কলকাতা নিয়ে আসে। পরে কলকাতা থেকে বাসে করে এনে বিএসএফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এরপর বিজিবি আমাদের আটক করে। গত তিন দিন ধরে আমরা এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ছিলাম সবাই। আমাদের পরিবারের লোকজন এসে আমাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে।

স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিতে আসা ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি প্রায় সাত বছর ধরে গুজরাটে ছিলাম। আমাদের পরিবারের সবাইকে এক সঙ্গে পুলিশ ধরেছে। পরে আমাকে আলাদা করে এক সপ্তাহ আগে বিএসএফ ও তাদের নৌবাহিনী আমিসহ ৭৮ জনকে সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া এলাকার এক চরে ছেড়ে দেয়। পরে ২৫-৩০ কিলোমিটার সাতার কেটে একটি টাওয়ার দেখতে পাই। সেখানে আমরা গেলে কোস্টগার্ড আমাদের উদ্ধার করে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। এরপর এলাকায় তাদের দেখে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দিলে বিজিবি তাদের আটক করে। পরে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে রাতে সবাইকে ডোলোপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে ৩ দিনের মাথায় তাদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে হস্তান্তর করা হয়।

হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ২১ জন আটক হওয়ার পর ইউএনও স্যার আমাকে ফোন করে তাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে রাখার বিষয়ে বলে। আমি তাদের থাকার ও খাবার ব্যবস্থা করি। তিন দিনের মাথায় তাদের অভিভাবক আসায় প্রশাসনের মাধ্যমে সবাইকে পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। শিশুসহ সবাই তাদের নিজ পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছে।

পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, আইনিভাবে আমরা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছি, তারা বাংলাদেশি। এ বিষয়ে ঘটনার দিন থানায় জিডি করা আছে। আজকে তাদের পরিবারের সদস্যরা এলে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন বলেন, ডিসি স্যারের নির্দেশে আটক ২১ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। এর মাঝে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ