শিরোনাম
রংপুরে জমি দখলে ইলিয়াসের একাধিক মামলায় নিঃস্ব চাচাতো ভাইয়েরা, বিষপানে একজনের আত্মহত্যা কারমাইকেল কলেজের উন্নয়ন দৃশ্যমান না হলে ২৮ জুলাই থেকে কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারী রংপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ অভিযুক্ত বাবা-ছেলে গ্রেফতার বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধে নেসকো প্রধান প্রকৌশলীসহ ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা রংপুরে তিস্তা নদীর পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে, ভাঙ্গনে সর্বশান্ত মানুষ রংপুর সিটি ভিউ আবাসিক হোটেলে ৪ তরুণ-তরুণী আটক রংপুরে এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের উদ্যোগে দিনব্যাপী ঈদ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠান বেরোবির ৪ শিক্ষার্থীকে ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ প্রদান রংপুরে কুরিয়ার সার্ভিসে আসা চায়ের প্যাকেট থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার দৈনিক দাবানলের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ষসেরা রিপোর্টার’ সম্মাননায় ভূষিত আহসান হাবিব মিলন
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

রংপুরে জমি দখলে ইলিয়াসের একাধিক মামলায় নিঃস্ব চাচাতো ভাইয়েরা, বিষপানে একজনের আত্মহত্যা

বার্তা প্রতিবেদক / ০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬


জমি দখলে একের পর এক মামলা করে এলাকায় মামলাবাজের আখ্যা পেয়েছে রংপুরের ইলিয়াস মিয়া। জমি দখল, ডাকাতি, ভাংচুর, মারপিটসহ প্রায় ১৬টি মামলা দিয়েছে চাচাতো ভাইদের নামে। হতদরিদ্র ভাইয়ের মামলার খরচ চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। মামলা-হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে এক ভাই বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। এরপরেও ইলিয়াসের মামলা-মামলা খেলা বন্ধ হয়নি। এনিয়ে স্থানীয় সালিশী মানেন না ইলিয়াস। মিথ্যা মামলা দিয়ে চাচাতো ভাইদের জমি দখলই ইলিয়াসের মূল টার্গেট বলছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের ঘাঘট নদীর তীরবর্তী এলাকা গাড়াল চৌকি গ্রাম। এ গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ উদ্দিন ও তছলিম উদ্দিন পৈত্রিক সূত্রে ১৬২২ দাগে ১২ শতক করে মোট ২৬ শতক জমি পায়। সেই সাথে ১৬৮১ দাগে ইউসুফ ১৫ শতক ও তছলিম ১৪ শতক জমি পায়। এর মধ্যে নিজেদের সুবিধার্থে মৌখিকভাবে ইউসুফ তার ১৫ শতক জমি তছলিমকে দিয়ে, তছলিমের ১৪ শতক জমি রদবদল করে নেয়। সেই ভাবেই তারা জমিতে বসবাসসহ ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। ঘাঘট নদীর তীরবর্তী জমি হওয়ায় ইউসুফ ও তছলিমের ১৬৮১ দাগের ২৯ শতক জমি এবং ১৬২২ দাগে ইউসুফের ১৩ শতক জমি নদীতে চলে যায়। এতে তছলিমের ১৩ শতক জমি নদীর তীরে টিকে থাকে। সেই সময় চতুর ইউসুফ তছলিমের জমিকে তার জমি দাবী করে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে মামলাসহ স্থানীয় বিচার সালিশ হয়। পরবর্তীতে নিজের ভূল বুঝতে পেরে ইউসুফ তছলিমের জমি থেকে তার দাবী তুলে নেয়। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা ঘাঘট নদীর তীরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিল। গেল কয়েক বছর আগে ইউসুফ উদ্দিনের ছেলে ইলিয়াস মিয়া তছলিম উদ্দিনের ছেলে চাচাতো ভাই জসিমের বসবাস করা জমির মালিকানা দাবী করে বসে। শুরু হয় নতুন করে মামলার খেলা। বড় ভাই ঢাকায় চাকুরী করা মোতালেব মিয়া সম্পদশালী হওয়ায় তার দেয়া টাকায় ইলিয়াস চাচাতো ভাই জসিম, আজাদ, মাজেদ, ওমর আলীর বিরুদ্ধে একের পর পর মিথ্যা মামলা দায়ের করতে থাকে। মামলার সংখ্যা প্রায় ১৬টি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই আদালত চত্ত্বরে উকিল-মুহুরীর কাছে সময়-অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে দিনমজুর জসিম ও তার ভাইয়েরা। ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর ইলিয়াস মিয়া চাচাতো ভাই জসিম, আজাদ, মাজেদ, ওমর আলীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও লুটপাটের মামলা দায়ের করেন। মামলার খরচ যোগাতে না পেরে রাগে, ক্ষোভে বিষপান করে আত্মহত্যা করে চাচাতো ভাই ওমর আলী। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজোট হয়ে ইলিয়াস আলীসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে জসিমসহ তার ভাইদের হয়রানি বন্ধে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর গণস্বাক্ষর করে আবেদন করেন। ইউপি চেয়ারম্যান সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ডাকাতির মামলা নিয়ে পিবিআই তদন্ত করে ইলিয়াস মিয়ার অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইলিয়াস মিয়া ২০২৫ সালের ২০ জুন জসিম ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও মারধরের মামলা করেন।
এলাকাবাসী শফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাইয়ুম মিয়া, রাসেলসহ অন্যরা বলেন, ইলিয়াসের বড় ভাই মোতালেব অর্থ-সম্পদশালী। জমি উদ্ধারের কথা বলে মোতালেবের কাছ থেকে ইলিয়াস মিয়া মোটা অংকের টাকা নিয়ে জসিমদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করছে। ইলিয়াস মামলা চালানোর কথা বলে ভাইয়ের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়ে আয়েশী জীবন-যাপন করছে। মামলা করা তার পেশা-নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী মাজেদ ও জসিম মিয়া বলেন, আমরা সবাই পেশায় দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ করে দিন হাজিরা টাকা দিয়ে সংসার চালাই। ইলিয়াসের বাবার জমি ঘাঘট নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ায় সে এখন আমাদের বাড়িভিটা দখলের পায়তারা করছে। এ লক্ষ্যে সে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে চলেছে। আমাদের প্রতিদিন ইলিয়াসের করা কোন না কোন মামলার কারণে আদালতে যেতে হচ্ছে। ফলে কাজ করতে না পেরে সংসার চালাতে পারছি না, এর উপরে মামলার খরচ চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।
তারা বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তে ইলিয়াসের করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এলাকাবাসীও গণস্বাক্ষর দিয়ে বলেছে এসব মামলা মিথ্যা। অবিলম্বে ইলিয়াসের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করাসহ আমাদের বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরী করতে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইলিয়াস মিয়া বলেন, আমার পৈত্রিক জমি উদ্ধারের জন্য মামলা করেছি। তারা আমাকে জমি দিয়ে দিক, আমি মামলা তুলে নেব। আমি তো কোন অন্যায় দাবী করছি না।
বালারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত বলেন, আজাদ, মাজেদ, জসিম, ওমরের নামে ইলিয়াসের করা মামলার বিষয়ে আমি নিজেই সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পাইনি। এছাড়া জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য একাধিকবার সালিশী বৈঠক করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। আমি চাই হতদরিদ্র এসব পরিবারে হয়রানি রোধে আদালতে দ্রুত মামলাগুলো নিস্পত্তি হোক। ### ২৪-০৭-২৬ইং


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ