নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় শূন্য কর্ষণ পদ্ধতিতে সরিষা চাষে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। উপজেলার দশটি ইউনিয়নেই চলতি মৌসুমে এই পদ্ধতিতে সরিষা আবাদ চলছে। কৃষকেরা বলছেন, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তারা এ প্রযুক্তিকে অত্যন্ত কার্যকর মনে করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, যিনি গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে শূন্য কর্ষণ পদ্ধতিতে সরিষা চাষ পরিচালনা করেছিলেন, জানিয়েছেন, আমন ধান সম্পূর্ণ পেকে গেলে ধান কাটার পাঁচ দিন আগে, যখন জমি রসালো ও ভেজা থাকে, তখনই সরিষার বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। এতে বীজ সহজেই অঙ্কুরিত হয় এবং ধান কাটার সময় মাড়াইয়ের আঘাতে স্বাভাবিকভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
তিনি আরও জানান, এবার ডোমার উপজেলায় কৃষকেরা মূলত বারী-১৪ সরিষা জাত চাষ করছেন। এই জাতের ক্ষেত্রে প্রতি বিঘায় বীজের পরিমাণ ৩৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১ কেজি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বজলার রহমান বলেন—
“বামনিয়া ইউনিয়নে শূন্য কর্ষণ পদ্ধতিতে বারী-১৪ সরিষা চাষ অত্যন্ত লাভজনক হয়েছে। চাষের খরচ কম, উৎপাদন ভালো, এবং সঠিক সময়ে বীজ বপন ও পরবর্তী ফসলের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় জমি দুই ফসলি থেকে তিন ফসলিতে রূপান্তরিত হয়েছে। গত বছর পরীক্ষা চালানোর পর এবার আমরা সমস্ত উপজেলায় কৃষকদের লাভজনক পদ্ধতি হিসেবে সরিষা চাষের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”
কৃষকরা মনে করেন, শূন্য কর্ষণ পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ ৪০ শতাংশ কমে, শ্রম কম লাগে এবং জমি দ্রুত কাজে লাগানো যায়। তারা আশা করছেন, এই পদ্ধতি অব্যাহত থাকলে ডোমার উপজেলায় সরিষা উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাবে।