লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ৬নং ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কান্ত বিদুর এর বিরুদ্ধে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যকে কূ প্রস্তাব ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যান কূ প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এমন কূ-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিষদের সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে ও খারাপ আচরন শুরু করেন চেয়ারম্যান। প্রতিবাদে ইউপি. সদস্য রোসনা বেগম গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায়, গত ১৫-১০-২০২৫ ইং তারিখে মিটিংয়ের কথা বলে পরিষদে ডেকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের নিজ ছেলে সৌরভ চন্দ্র ও কয়েকজন অনুসারী মিলে মারধর করে এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। রোসনা বেগম ০৬ নং ভাদাই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।
রোসনা বেগম অভিযোগ করেন, “চেয়ারম্যান বিধু চন্দ্র রায় বিভিন্ন সময়ে আমাকে কূ প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবে রাজি হলে এলাকার ভিজিডি, ভিজিএফ, ১০ টাকার চালসহ সকল সুবিধা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান জরুরি মিটিংয়ের কথা বলে তাঁকে পরিষদের অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করে পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে অফিসে আটকে রেখে সন্ধ্যার পর ছেড়ে দেন। বিষয়টি পুলিশকে জানালেও ওই দিন ঘটনাস্থলে গিয়েও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।
তাঁর স্বামী মো. দেলদার আলী বলেন, “আমার স্ত্রী রোসনা বেগম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নানাভাবে কূ-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল আদিতমারি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ভাদাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কান্ত বিদুর রায়। তিনি আরোও বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমল থেকে ক্ষমতা দেখিয়ে নানা ভাবে পরিষদের সুবিধা বঞ্চিত করছেন।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটির প্রতিবাদ করলে ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহেশ্বরকেও চেয়ারম্যানের লোকজন মারধর করে। পরবর্তীতে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জোরপূর্বক চেয়ারম্যানের হাত ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় ওই ইউপি সদস্যকে। তবে এবিষয়ে গণমাধ্যমে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি মহেশ্বর চন্দ্র।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোসনা বেগম আদিতমারী থানা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নারী ইউপি সদস্যকে মরাধরের বিষয়ে জানতে, ০৬ নং ভাদাই ইউনিয়ের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কান্ত বিদুরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এবিষয়ে আদিতমারি থানার অফিসার ইনচার্জ আকবর আলি বলেন, ভাদাই ইউনিয়ের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোসনা বেগম লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদিতমারি উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার জানায়,মহিলা ইউপি সদস্যের বিষয়টি অভিযোগ পেয়েছি এ বিষয়ে থানায় ও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি সঠিক তদন্তের জন্য আদিতমারি থানাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।