ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের আব্দুস সামাদ, যিনি একসময় প্রাথমিক ও মাদ্রাসার গণ্ডি পেরিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে উঠেছে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির লোভে নিজের জন্মপরিচয় গোপন করে চাচাকে বাবা সাজিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি থানায় কর্মরত এই পুলিশ সদস্যের জালিয়াতির ঘটনা এখন টক অফ দ্য টাউন।
প্রতারণার জাল যেভাবে বুনেছিলেন সামাদ:
২০০৯ সালে হারাগাছপাড়া জান্নাতুল ফেরদেীস মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করার পর থেকেই সামাদের মনে জন্ম নেয় মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগ নেওয়ার বাসনা। এই অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তিনি বেছে নেন তার বড় চাচা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীর পরিচয়। চাচার নাম ব্যবহার করে নিজেকে তার সন্তান দাবি করে তৈরি করেন জাল জাতীয় পরিচয়পত্র। এরপর ২০১০ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
পরিবারের নীরবতা ও চাচার অভিযোগ:
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাদের পরিবার গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে নারাজ। তবে তার বড় চাচা আনসার আলী, যিনি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগা খড়িবাড়ি গ্রামে বসবাস করেন, এই জালিয়াতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সামাদ আমার ভাতিজা। কাগজপত্র চুরি করে এমন জালিয়াতি করেছে। আমি রংপুর পুলিশ অফিসে অভিযোগ করেছি।”
বন্ধুদের সাক্ষ্য ও শিক্ষকের পরিচয় নিশ্চিতকরণ:
সামাদের শৈশবের বন্ধু আশরাফুল ইসলাম জানান, তারা ছোটবেলা থেকে একসাথে খেলাধুলা করেছেন এবং একই মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৯ সালে তারা একসাথে দাখিল পরীক্ষায় পাশ করেন। আশরাফুল নিশ্চিত করেন যে সামাদ তার বাবা-মায়ের সঙ্গেই এখানে থাকতেন। হারাগাছ পাড়া জান্নাতুন ফেরদৌস মাদ্রাসার এক শিক্ষকও সামাদের বাড়ি এবং তার বাবা-মায়ের সাথে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও পারিবারিক পরিচয়ের কথা স্বীকার করেছেন।
সামাদের অস্বীকৃতি ও তদন্তের আহ্বান:
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস সামাদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীকে নিজের বাবা বলে দাবি করেন, তবে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি থানার ওসি শওকত আলী সরকার এই ঘটনাকে “জালিয়াতি করে চাকরি নেওয়া অপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এই ঘটনা সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।