টু-লেট ফাঁদ নাকি হানি ট্র্যাপ! সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হলো শিক্ষানগরী খ্যাত ময়মনসিংহবাসী। গতকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায় বিষয়টি। এমন কান্ডে নেটিজেনরাও বেশ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বলেছেন মফস্বল শহরে বসবাস করে এতো বিলাসী জীবন যাপন কিভাবে সম্ভব কলেজ পড়ুয়া সুন্দরী দুই তরুণীর।
ঘটনার বিস্তারিত জানার পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়,দুই তরুণীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায়। তাড়াইল বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শাহ আলমের মেয়ে সাদিয়া ওরফে মেঘলা (২৩) ও রাজু আহম্মেদের মেয়ে ফারিয়া আক্তার ওরফে পায়েল (২১)। তারা দুজনেই ময়মনসিংহের একটি কলেজের শিক্ষার্থী।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার-
ফেসবুকে ‘টু-লেট’ বিজ্ঞাপন দেখে নগরের গুলকিবাড়ী এলাকার ফখরুজ্জামান টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় সাবলেট বাসা দেখতে গিয়েছিলেন আনন্দমোহন কলেজের গণিত বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান ওরফে নাঈম (২৩)। তাঁর বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভূরারবাড়ী গ্রামে। ওই বাসায় যাওযার পর চার তরুণী ও চার তরুণ মিলে তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করেন বলে অভিযোগ। চক্রটি তাঁর মুঠোফোন, ল্যাপটপ ও ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান ওরফে নাঈম (২৩) থানায় মামলা করলে দুই তরুণীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এবং তাদের কাছে থাকা দামী ২টি আইফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করে। সেইসাথে এই চক্রের বিসৃত নেটওয়ার্কের সাথে কারা কারা জড়িত সেটি অনুসন্ধানে গতকাল রোববার আদলতের মাধ্যমে দুই তরুণীর ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদনও করেছে ময়মনসিংহের কোতয়ালি থানা পুলিশ।
এমন আলোচিত নেক্কারজনক ঘটনার সাথে কলেজ পড়ুয়া দুই তরুণী জড়িত থাকায় কিশোরগঞ্জের মানুষ ও সুশীল সমাজের লোকজন বেশ হতবাক হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষা যদি তরুণ-তরুণীদের ন্যায় অন্যায় বিচার করার নৈতিকতা না শেখায়, তাহলে জাতি সামনের দিনে আরো অস্তিত্ব সংকটে ভুগবে।