বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সবাইকে নিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই। একটি দল বলেছে তারা জামায়াতে ইসলামী বাদে বাকি সব দল নিয়ে কাজ করবে। আমরা বলছি, আল্লাহ যদি আমাদের সরকারে বসায়, তাহলে তাদেরসহ সবাইকে নিয়েই আমরা দেশ গড়বো। দেশের চিত্র পাল্টে দেবো। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ উপহার দেবো। সরকার গঠনের পর কেউ যদি আমাদের ওপর আগের মতো অবিচার চালানোর চেষ্টা করে- তাহলে আমরাও বসে থাকবো না। দোয়া করুন, সতর্ক থাকুন, বাংলাদেশ যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদের মুখে না পড়ে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আরামবাগে একটি কনভেনশন সেন্টারে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচন দেশ জাতি ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তিকে মাথায় রেখে জনমত আদায়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার থাকবে। দুর্নীতির গোড়া কেটে দেয়া হবে। সব জায়গায় ইঁদুর বসে আছে রশি কেটে দেয়ার জন্য। তারা আমাদের সকল ফসল নষ্ট করে দেবে, যেভাবে অতীতে দিয়েছে। এটা রক্ষা করা কি একা জামায়াতের দায়িত্ব ? আমাদের সমবেত দায়িত্ব দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, একদল লুটপাট করবে, বিদেশের মাটিতে বেগমপাড়া করবে, মানুষ অত্যাচারের শিকার হবে। এটা আমরা চাই না। এ জন্য জনগণের কথা- এবার আমরা পরিবর্তন চাই। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কেউ থামাতে পারবে না। আর সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে মানুষ আর ব্যাংক লুটপাট করবে না, মানুষ খুন করবে না, মানুষের জিনিসপত্র আত্মসাৎ করবে না। আমরা শিক্ষার উন্নয়ন করতে চাই, মানুষের কল্যাণ করতে চাই, দুর্নীতি বন্ধ করতে চাই। সব জায়গায় ইঁদুর বসে আছে রশি কেটে দেয়ার জন্য। আমাদের সকল ফসল নষ্ট করে দেবে, যেভাবে অতীতে দিয়েছে। এটা রক্ষা করা কি একা জামায়াতের দায়িত্ব ? সমাজ নষ্ট করা ইঁদুরদের আমরা তাড়াতে চাই। আপনারা আপনাদের হাত আমাদের জন্য বাড়িয়ে দিন।
তিনি বলেন আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না। একসাথে এগোবো। সবাই মিলে বাংলাদেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে এমন কিছু করবো যেটা জাতির কাছে আমাদের ওয়াদা। আমাদের যদি একজন বা ২০০ জন এমপি হন তাহলেও আমাদের কোনো এমপি সরকারি কোনো প্লট বা ট্যাক্স-ফি গাড়ি নিবেন না। আমরা এখন যেভাবে চলছি সেভাবেই চলবো। এখন যদি সাইকেল বা রিকশায় চলি আগামীতেও সেভাবে চলবো।
তিনি বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কোন ঠাই হবেনা। দুঃশাসন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা কোনো বাধাই মানবো না। দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনে আবার লড়াই চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে কারো হাতে ইজারা দেয়া হয় নাই।