শিরোনাম
রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পেল ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা রংপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার রংপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারী মৃত্যু মিঠাপুকুর ভুমি অফিসের ক্যাশিয়ারের তৌহিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সবচেয়ে জরুরী …. রংপুরে ত্রাণ মন্ত্রী দুলু রংপুরে তিস্তা নদীবেষ্টিত কর্মহীন ও দ্স্থু ৩’শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান রংপুরে সাংবাদিক হত্যা মামলায় এক আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন রংপুরে চার খুনের ঘটনায় তদন্তে আসা নানা প্রশ্নের জবাব পেশাদারিত্বের সাথে খুঁজছে পুলিশ এসপিজিআরসি’র নেতা এম নাসিম খানের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরে নানা কর্মসূচী পালিত মাদকসেবনে বাঁধা দেয়ায় শিক্ষক গণপতিসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে বিষাক্ত খৈয়া গোখরার ছোবলে সাপুড়ের মৃত্যু, কাঁচা সাপ খেয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন আরেক ওঝা।

মোঃ দুর্জয় হাসান নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) / ২৮০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় খৈয়া গোখরা ছোবলে এক অভিজ্ঞ সাপুড়ে মারা গেছেন। আর এই ঘটনার পর সেই সাপটিকেই কাঁচা চিবিয়ে খাওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ। স্থানীয়রা একে কুসংস্কার ও ঝুঁকিপূর্ণ লোকজ বিশ্বাসের ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

জানা গেছে, বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়া গ্রামের সাপুড়ে বয়েজ উদ্দিন পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ ইউনিয়নের ইমরান আলীর বাড়িতে সাপ ধরতে যান। একটি পাকাঘরের ইঁদুরের গর্তে বাসা বেঁধেছিল একটি বড় কিং কোবরা এবং তার ১৫-১৬টি ছানা। গর্ত খুঁড়ে ছানাগুলোর পর মূল সাপটিকে ধরার চেষ্টা করেন বয়েজ উদ্দিন। কিন্তু বস্তায় ঢোকানোর আগেই সাপটি তাকে ছোবল দেয়।

সাপের ছোবলের পর প্রাথমিকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বয়েজ উদ্দিন বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করে। এ সময় স্থানীয়ভাবে ‘সাপ খাওয়া মোজাহার’ নামে পরিচিত এক ওঝা, যিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা, তিনি উপস্থিত হয়ে মৃতের স্বজনদের কাছ থেকে বিষধর সাপটিকে বুঝে নেন। পরে গাবতলা বাজারে শত শত মানুষের সামনে সেটিকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলেন। মোজাহার দাবি করেন, “সাপ খাওয়া আমার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আমি বিশ্বাস করি, বিষাক্ত সাপের রক্ত-মাংসে অলৌকিক শক্তি থাকে।” তিনি আরও জানান, সাপের বাচ্চাগুলোর প্রাণ তিনি রাখবেন।

মৃত বয়েজ উদ্দিনের বাড়িতে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় ও তান্ত্রিক ঝাড়ফুঁকের আয়োজন চলে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ প্রসঙ্গে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস. এম. আবু সায়েম বলেন, “সাপে কাটা রোগীর একমাত্র নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা। কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কার নির্ভর পদ্ধতি কার্যকর নয়। আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম মজুদ রয়েছে। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ে, তাই মানুষকে সচেতন থাকতে হবে।

সচেতন মহল বলছেন, এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, অজ্ঞতা এবং ভ্রান্ত বিশ্বাসের করুণ চিত্র তুলে ধরে। তারা গণসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ