কিশোরগঞ্জের প্রান নরসুন্দা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের রঘুখালী এলাকায় ওই সেতুটি নিচু করে নির্মিত হচ্ছে। সেতুটির দুই ফুটের মতো নিচ দিয়ে বইছে পানিপ্রবাহ। ফলে এখান দিয়ে ছোট কোনো ডিঙ্গি নৌকাও চলাচল করতে পারবে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসী বলেন, এমনতিই যথাযথ সংস্কারের অভাবে নরসুন্দা নদীটি মৃতপ্রায়। এই সেতুটি নির্মাণের পর নদীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তারা। পাশের ছয়না গ্রামের হামিদুল ও রঘুখালী গ্রামের ব্যবসায়ী হাসান আলী জানিয়েছেন, এবার বর্ষার পানি একেবারেই আসেনি বলা চলে। সেই পানিই সেতুর গার্ডার ছুঁইছুঁই। যদি বর্ষার পানি পুরোদমে আসে তাহলে সেতুর গার্ডারের অনেকটাই তলিয়ে যাবে।
জেলার এলজিইডির এক কর্মকর্তা জানায়, ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। উত্তর পাশে রঘুখালী প্রান্ত থেকে দক্ষিণ পাশে বৌলাই ইউনিয়নের ছয়না প্রান্ত পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার। সেতুর কাজটি প্রথমে পেয়েছিল ‘এইচটিবিএল-এসএসি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা শুধু পিলার বা অ্যাভার্টমেন্টের কাজ করে গার্ডার না বসিয়েই এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা তুলে নেয়। তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে ভৈরবের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমিনুল হককে কাজ দেওয়া হয়েছে। নতুন বরাদ্দ হয়েছে দুই কোটি ১৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সেতুটি নির্মিত হলে নরসুন্দা নদীর দুই পারের কিশোরগঞ্জ-জঙ্গলবাড়ি সড়ক ও কিশোরগঞ্জ-চামটা নৌবন্দর সড়কের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে। ওই সড়ক দুটি দিয়ে দিনে হাজারো যানবাহন চলাচল করে। বহু যানবাহনকে এক সড়ক থেকে অন্য সড়কে যেতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হয়। রঘুখালী সেতুটি নির্মাণ হলে দুই সড়কেই যানজট কমার পাশাপাশি এই ভোগান্তির অবসান হবে। কিন্তু সেতুটি নীচু করে নির্মাণ করায় নদীর চরম ক্ষতি হবে।
ঠিকাদার মমিনুল হককে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলেন, এলজিইডি যেভাবে ডিজাইন করেছে, তিনি সেভাবেই সেতুর গার্ডার বসাচ্ছেন। এর বাইরে যাওয়ার তাঁর কোনো সুযোগ নেই।
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত কবীর বলেন, ‘এইচটিবিএল-এসএসি’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ২০২১ সালের সালের ৩ নভেম্বর। কাজটি শেষ করার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর। বরাদ্দ ছিল তিন কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু সেতুর দুই পাশে দুটি অ্যাভার্টমেন্ট নির্মাণ করে প্রায় দুই বছর আগে এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা তুলে তারা চলে গেছেন। তাই আগের কার্যাদেশ বাতিল করে ভৈরবের মেসার্স মমিনুল হককে কাজ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প শেষ করার জন্য আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে সম্প্রতি একটি বিশেষজ্ঞ দল সেতুটি পরিদর্শন করে গেছে। তারা ত্রুটি নিয়ে কিছু জানায়নি। বিশেষজ্ঞ দল যদি কোনো নির্দেশনা দেয়, তখন সংশোধনের উদ্যোগ নেবেন।