ঢাক-ঢোলের তালে আগামী ২৮ (সেপ্টেম্বর) মহাষষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। যেখানে মন্দিরে মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের আয়োজন, প্রতিমা গড়ার কাজ, এবং ঢাক-ঢোলের মাধ্যমে উৎসবের আমেজ তৈরি হচ্ছে। শরতের কাশফুলের দোলা এবং শিউলির গন্ধ জানান দিচ্ছে এই উৎসবের আগমনী বার্তা, যা সর্বত্র উৎসবের সাজসাজ রব তৈরি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার কিশোরগঞ্জে ৪১৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন হবে। মন্ডপে মণ্ডপে তৈরি করা হচ্ছে মা দুর্গার প্রতিমা। রঙতুলিতে দেব-দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
গত বছর জেলায় ৩৫৭ টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৪১৪ টি করা হয়েছে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ দুর্গোৎসব সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন আয়োজকদের সঙ্গে। ভক্তদের আশা, দেবী দুর্গা হবে বিশ্ব, সুখ- সমৃদ্ধিতে সমাদৃত।
প্রতি বছর দুর্গাপূজায় যে জাঁকজমক আয়োজন থাকে, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এরই মধ্যে বেশিরভাগ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও মাটির কাজ শেষ করেছেন শিল্পীরা। শুরু হয়েছে রঙের প্রলেপ দেওয়া ও প্রতিমা সাজানোর কাজ। দুর্গার সঙ্গে স্থান পাচ্ছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের মূর্তিও। ব্যস্ততায় সময় পার প্রতিমা শিল্পীরা। আয়-রোজগারও বেড়েছে তাদের। প্রতিমা তৈরি শিল্পীরা বছরের এই একটা আয়োজনের অপেক্ষায় থাকেন কারন এই একটি উৎসবেই কিছুটা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন তারা।
কিশোরগঞ্জের সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে দলবল নিয়ে প্রতিমা তৈরি করছেন অরুন রায়। তিনি ডিআরবি নিউজকে বলেন, পারিবারিক পেশাটা চালিয়ে যাচ্ছি কারন পূর্বপুরুষরাও এই পেশায় তাদের জীবন যাপন করেছিলেন। এখন রঙ ও সাজের কাজ চললাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।
কিশোরগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছেন, আমাদের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। দুর্গাপূজায় যেন দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করতে পারেন সে বিষয়ে প্রশাসন এবং আমরা মিলেমিশে খেয়াল রাখবো। এ ছাড়া নিরাপত্তা রক্ষায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করছি। আশা করছি, সুন্দরভাবে পূজা উদযাপন করতে পারবো আমরা।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডিআরবি নিউজকে বলেন, দুর্গাপূজায় শোভাযাত্রা ও আরতিসহ জমকালো অনুষ্ঠান অনেক থাকবে। ধর্মীয় পর্বগুলোর কমতি থাকবে না। পূজা উদযাপন পরিষদ থেকে জেলার প্রতিটি মণ্ডপে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করছি। জেলায় বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন হয়। এবারও ব্যত্যয় ঘটবে না।
জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব পূজামণ্ডপের আয়োজকদের নিয়ে আমরা সভা করেছি। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পূজা অনুষ্ঠিত করতে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। আশা করছি, অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে।