আকাশে মেঘ আর রোদের লুকোচুরি খেলা। কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, আবার কখনো উজ্জ্বল রোদের ঝলকানি। এই বৈরী আবহাওয়াও যেন দমিয়ে রাখতে পারছে না উৎসবের উন্মাদনা। এই মেঘ-রোদ্দুরের খেলায়ই যেন মিশে আছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনী সুর। আর এই সুরের মূর্ভেনা এখন শহরের প্রতিটি মার্কেট। কারণ, দুর্গাপূজা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির এক আবেগ, এক মিলনমেলা। নতুন পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে তোলার, প্রিয়জনদের উপহার দেওয়ার এক অনাবিল আনন্দ। আর সেই আনন্দকে সঙ্গী করেই কিশোরগঞ্জ শহরের মার্কেটগুলোতে এখন চলছে পূজার কেনাকাটার ধুম।
মঙ্গলবার শহরের মূল পয়েন্ট রথখলা,তেরীপট্রি,গৌরাঙ্গ বাজার, বড় বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পূজার কেনাকাটার জন্য ক্রেতাদের ভীড়। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের সংখ্যাই বেশি। তারা বলছেন, পূজার ঠিক আগে ভিড় বেড়ে যায় বলে এখন থেকেই কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন।
বিক্রেতারাও খুশি। তারা বলছেন,এই সপ্তাহে বিক্রি বেশ বেড়েছে। যদিও এখনো পুরোপুরি কেনাকাটার ধুম শুরু হয়নি, তবে ক্রেতা সমাগম এখন থেকেই বেশ আশাব্যঞ্জক।
পূজার কেনাকাটা করতে আসা অমিত কেয়া রায় বলেন, “পূজায় বাড়িতে যাবো। কয়েকদিন আগেই যাবো তাই কেনাকাটা করতে আসছি। এখন ভিড় কিছুটা কম, কেনাকাটা করতেও ভালো। এজন্যই আসা।”
কাপড় কিনতে আসা রিয়া বিশ্বাস বলেন, “দুর্গাপূজা আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রতি বছরই নিজের জন্য এবং পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করি। এবারও তাই এসেছি।”
সুস্মিতা পাল নামে আরেক ক্রেতা বলেন, “ভার্সিটির পরীক্ষা শেষ। পূজায় তাই এবার আগেই বাড়িতে চলে আসছি। এজন্য আগেভাগে কেনাকাটা সেরে ফেলছি।”
নিরালা শপিং কমপ্লেক্সের দোকানি খায়রুল সাহেব জানান, “আজ ক্রেতা সমাগম বেশ বেড়েছে। ভালো বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি এবার ভালো বিক্রি হবে।”
শুধু বড় মার্কেটগুলোই নয়, গৌরাঙ্গ বাজার ব্রিজের পাশের ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ধরনের পোশাক যেমন জিন্স প্যান্ট (৬০০-১২০০ টাকা), ড্রপ সোল্ডার টি-শার্ট (৪০০-৫০০ টাকা), শার্ট (৫০০-১০০০ টাকা) এবং টি-শার্ট (২০০-৪০০ টাকা) বিক্রি হচ্ছে।
পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মার্কেটে নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। সব ধরনের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে পোশাকের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, তারা আশা করছেন এবার বিক্রি ভালো হবে, কারণ গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নয়, সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ বিরাজ করছে। সবার প্রত্যাশা, উৎসবটি নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।