রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেসরকারি ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানহা বিনতে বাশারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ তার বন্ধু আনিল ফয়সাল সায়মনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী তানহা, তার পরিবার ও বন্ধুরা তানহার মৃত্যুর জন্য সায়মনকেই দায়ী করছে। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রথমে এটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখা হলেও আগামীকাল তানহার পরিবার অভিযুক্ত সায়মনকে দায়ী করে একটি হত্যা মামলা করতে পারে। পরিবার ও তানহার বন্ধুদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
নিহত তানহা বিনতে বাশার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের আবুল বাশার ভূঁইয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত বন্ধু সায়মন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বনকরা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে।
তারা দুজনই ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর শিক্ষার্থী।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি বাসা থেকে তানহা বিনতে বাশারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে নিহত তানহার বাবা আবুল বাশার ভূঁইয়া বলেন, ‘সায়মন বেশ কিছুদিন ধরে আমার মেয়েকে মানসিকভাবে কষ্ট দিচ্ছিল। তার মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে সোমবার দুপুরে তানহা আমাকে ফোন করে জানায় সে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তার মন ভালো নেই, তাকে ঢাকা থেকে নিয়ে যেতে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় সে ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করে এবং আমাকে বলছিল সায়মন আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে, এটি মেনে নেওয়া আমার পক্ষে কষ্টকর। ‘বাবা, আমার ভুল হলে ক্ষমা করে দিও।’ এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় বাসায় পৌঁছে দেখি মেয়ের গলায় ফাঁস লাগানো। সে আত্মহত্যা করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অবিলম্বে সায়মনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তাকে যেন স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয় এবং আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার প্ররোচনায়ই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।’
আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তানহার বাবা।
এ বিষয়ে জানতে গণমাধ্যম থেকে সেই সায়মনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে, নিহতের বড় বোন নুসরাত জাহান বলেন, ‘সায়মন ও তানহার প্রেমের বিষয়টি তারা জানতেন। সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর সকালে সায়মন ও তানহার কথা হয়। ওই সময়েও তানহা বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এরই মধ্যে তানহা কেন আত্মহত্যা করেছে এটি আমাদের জানা নেই।’
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর বাকি আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
মোহাম্মদপুর জোনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেন, ‘তানহার মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত সায়মন পলাতক। তাকে পুলিশ খুঁজছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত সাইমুনের বিষয়ে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী এমদাদ হাসান ইয়ামিন বলেন, ‘যেদিন তানহা আত্মহত্যা করে, ওইদিন বিকেলে সাইমুন আমাকে কল দিয়ে জানতে চায় তানহার কিছু হয়েছে কিনা। তখন আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তানহা আত্মহত্যা করেছে। এটা সাইমুনকে জানাতেই ও ফোন কেটে দেয়। তারপর থেকে ওর ফোন বন্ধ। লাস্ট আমাকে ও যেটা বলে যে ও ওর কাকার বাসায় চলে গেছে। কিন্তু আমরা কেউ ওর কাকার বাসা চিনি না।’
এর আগে তানহার মৃত্যুর জন্য সায়মনকে অভিযুক্ত করে ফেসবুক লাইভ করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তানহার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাসমিম আলম নাগর।
তিনি জানান, সায়মনের সঙ্গে তানহার কয়েক বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সায়মন অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তানহা সায়মনকে বিয়ে করার চাপ দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তানহা আত্মহত্যা করে। আমরা এর জন্য সায়মনকে দায়ী করছি। একে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।