পঞ্চগড় শহর ও আশপাশের এলাকায় সম্প্রতি বেশিরভাগ অপ্রাপ্ত বয়স্ক তরুণদের মধ্যে মোটর সাইকেলে উচ্চ শব্দের হলার ও হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানোর প্রবণতা বেড়েছে। তাদের বেপরোয়া চলাচলে সৃষ্ট উচ্চ শব্দে এক রকম অতিষ্ঠ নগরীর পথচারি সহ অন্যান্য যান চালকরা। শুধুমাত্র নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা আর শখের বশে দামি মোটরবাইকটির ক্ষতি করে এমন উচ্চ শব্দের বাইকে রুপান্তর করার কথা স্বীকার করেছে একাধিক কিশোর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক তরুণের এখনও মোটরসাইকেল চালানোর বৈধ লাইসেন্স নেই, তবুও তারা নিয়ম-নীতি অমান্য করে রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ আসা এবং যাওয়ার পথে শহরের বিভিন্ন মোড়ে, পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ রোড, মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ রোড, পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ব্যরিষ্টার বাজার পর্যন্ত উচ্চ শব্দের হলার ও হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে তারা চলাচল করে, যা এলাকাবাসীর শান্তি বিনষ্ট করছে।
এতে করে হৃদরোগী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা ভয় ও মানসিক চাপে ভুগছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রাতের বেলা এ শব্দে ঘুম নষ্ট হচ্ছে, রোগীরা বিরক্ত হচ্ছেন, এমনকি অনেক সময় হঠাৎ শব্দে ছোট শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। পঞ্চগড় বাজার চৌরঙ্গী মোড় এলাকার মোটর সাইকেল মেকানিক রাশেদ জানান, আগে খুঁজেও এমন মোটরসাইকেল দেখা যেত না। এখন হলার লাগানোসহ নানা উপায়ে বাইকের শব্দ বাড়ানোর ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। গত ২ বছরে নগরীতে এমন বাইকের সংখ্যা লক্ষণীয় পর্যায়ে বেড়েছে। কেউ টাকা খরচ করে এটি করে, কেউ আবার বিনে পয়সায় কেটে ফেলে নিজের দামি বাইকের সাইলেন্সরটি। এতে বাইক চালালে স্বাভাবিক শব্দই বের হয় বিকট আকারে। এ বিষয়ে পঞ্চগড় ট্রাফিক অফিসের এটিএসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান ‘‘উচ্চ শব্দের এসব হলার ও হর্ণ গাড়িতে সংযুক্ত করা আইনত দন্ডনীয়। আমরা ইতিপূর্বে এ বিষয়ে কয়েকটি মামলা দিয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’’ তিনি আরও জানান ‘‘এখানে সমস্যা হচ্ছে যারা এসব উচ্চ শব্দের এসব হলার ও হর্ণ ব্যবহার করেন তারা বেশিরভাগ সময় হাইওয়ে ব্যবহার না করে শহরের পকেট রাস্তা ব্যবহার করে, ফলে তাদের আইনের আওতায় আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এ ধরনের শব্দ দূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরী বলে তারা মত দেন।