শিরোনাম
দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে রংপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পেল ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা রংপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার রংপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারী মৃত্যু মিঠাপুকুর ভুমি অফিসের ক্যাশিয়ারের তৌহিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সবচেয়ে জরুরী …. রংপুরে ত্রাণ মন্ত্রী দুলু রংপুরে তিস্তা নদীবেষ্টিত কর্মহীন ও দ্স্থু ৩’শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান রংপুরে সাংবাদিক হত্যা মামলায় এক আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন রংপুরে চার খুনের ঘটনায় তদন্তে আসা নানা প্রশ্নের জবাব পেশাদারিত্বের সাথে খুঁজছে পুলিশ
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন

আর্থিক সংকটে কখনো হতাশ হয়নি পাখি, টিউশনি করে জিপিএ-৫

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৬২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫

বাবা একজন সাধারণ মুদি দোকানি। মা গৃহিণীর কাজ করেন। সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের পড়াশোনার প্রতি সর্বদা সাহস ও প্রেরণা দিয়েছেন তারা। পরিবারের আর্থিক অবস্থায় কখনোই স্বাচ্ছন্দ্য ছিল না। তবুও থেমে থাকেনি ইয়াসমিন আক্তার পাখি।

লেখাপড়ার খরচ চালাতে নিজের দায়িত্ব নিজেই কাঁধে তুলে নেয় পাখি। টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালাত সে। তবে নিজের প্রয়োজনের চেয়ে পরিবারের প্রয়োজনকেই বেশি প্রাধান্য দিত। এভাবেই সব প্রতিকূলতা পেছনে ফেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই অদম্য শিক্ষার্থী।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়গঞ্জ গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার পাখি। ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় আলহাজ মাহমুদ আলী বি এল বিদ্যালয় থেকে এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে সে। ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চিকিৎসক হতে চায় পাখি।

তার এই সাফল্যে এলাকাবাসীও খুশি। হাবিব মিয়া (৫০) নামে এক প্রতিবেশী বলেন, পাখি খুবই পরিশ্রমী মেয়ে। নিজে পড়াশোনার পাশাপাশি আবার ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে টিউশনির পড়ায়। আমি দেখেছি, অনেক কষ্টের মাঝেও সে কখনো পড়াশোনা ছাড়েনি। জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা গ্রামবাসী খুশি।

আরেক প্রতিবেশি মোছা. আনোয়ারা বেগম (৫৫) বলেন, পাখি আমাদের গ্রামের গর্ব। তার বাবার দোকানে সামান্য আয়, তবুও মেয়েটি হাল ছাড়েনি। ও যদি লেখাপড়া করতে পারে তাহলে সে একদিন ডাক্তার হয়ে এই গ্রামের মানুষের জন্য অনেক কিছু করবে। আমরা সবাই ওর জন্য দোয়া করি।

পাখির বান্ধবী সাথী আক্তার জানায়, পাখির স্বপ্ন অনেক বড়, কিন্তু সে কখনো অহংকার করে না। বরং আমাদেরও উৎসাহ দেয়। আর্থিক সংকটেও সে কখনো হতাশ হয়নি। টিউশনি পড়িয়ে নিজের খরচ চালিয়ে এভাবে লড়াই করা সত্যিই অসাধারণ।

ইয়াসমিন আক্তার পাখি জানায়, আমি টিউশনি পড়িয়ে নিজের লেখাপড়া করেছি। টিউশনি পড়িয়ে যে টাকা পাই তাই দিয়ে নিজের লেখাপড়া ও সংসারে কিছু খরচ দিতাম। বাবার মুদির দোকান থেকে কিছুটা আয় হতো, তাই দিয়ে চলতো। আমি একজন চিকিৎসক হয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।

ইয়াসমিনের বাবা মো. আবুল কালাম বলেন, আমি মুদির দোকানি। আমার মেয়ে ৭ম শ্রেণি থেকে ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে পাড়াত। সেখান থেকে যে টাকা পেত, সেই টাকা দিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারে খরচ চালাত। মেয়ের ইচ্ছা ডাক্তার হবে। আমি তার লেখাপড়া করাতে চাই। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।

আন্ধারীঝাড় আলহাজ্ব মাহমুদ আলী বি এল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, পাখি একজন মেধাবী ছাত্রী। সে জিপিএ ৫ পেয়েছে। যদি লেখাপড়া চালিয়ে যায়, তাহলে আরও ভালো করবে। আমি চাই তার আশা পূরণ হোক। আমাদের এবারের এসএসসিতে ১৪৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ২৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। ২৭ জন ফেল করেছে। আমরা চেষ্টা করবো আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ