ঐতিহাসিক চিলাহাটি রেলস্টেশন ভবনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল বিভাগের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে স্টেশন ভবনটি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্য দিয়ে চালু হলো বহুল প্রত্যাশিত অভ্যন্তরীণ স্টেশন অফিস।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিভিশনাল ট্রান্সপোর্ট অফিসার হাসিনা খাতুন, ডিভিশনাল কমার্শিয়াল অফিসার গৌতম কুমার কুন্ডু, ট্রাফিক ইনস্পেক্টর হাবিবুর রহমানসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নতুন স্টেশন ভবনের কার্যক্রম শুরুকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগ চিলাহাটিকে শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে।
সতর্কতার সঙ্গে ভবনে বসানো হয়েছে ১৭টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি)। এর মধ্যে ১৪টি পরিচালনা করছে কাস্টমস বিভাগ, বাকিগুলো রেলওয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
নতুন ভবনে রয়েছে স্টেশন মাস্টারের কক্ষ, আধুনিক টিকিট কাউন্টার, যাত্রীদের জন্য প্রশস্ত বসার ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্ন টয়লেট। ভবিষ্যতে এখানে যুক্ত হবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, মানি এক্সচেঞ্জ অফিস, ফাস্টফুড দোকান এবং তিনতলা বিশিষ্ট হোটেল, যা ভ্রমণকারীদের বিশ্রাম ও খাবারের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করবে।
চিলাহাটি রেলস্টেশনের রয়েছে একটি গৌরবময় অতীত। ১৮৭৮ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে পূর্ব ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে রেলপথ সংযোগের অংশ হিসেবে চিলাহাটি হয়ে কলকাতা-দার্জিলিং রুটে রেল চলাচল শুরু হয়। দেশভাগের পরও ট্রেন চলছিল এই পথে। কিন্তু ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায় চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রুট।
দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবারও চালু হয় মালবাহী ট্রেন চলাচল। ২০২১ সালের ২৭ মার্চ যাত্রা শুরু করে যাত্রীবাহী ‘মিতালি এক্সপ্রেস’। ঢাকা-শিলিগুড়ি রুটের এ ট্রেনটি দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। সাপ্তাহিক দুই দিনের এ ট্রেন চলাচল বর্তমানে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে; তবে পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মিতালি এক্সপ্রেসের পুনরায় চালুর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হবে চিলাহাটিতে ইমিগ্রেশন অফিস চালু হলে, যাতে আর ঢাকায় গিয়ে ইমিগ্রেশন করতে না হয়।
অঞ্চলভিত্তিক আমদানি-রপ্তানি, কৃষিপণ্যের বাণিজ্য, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও পরিবহন খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে এই স্টেশনকে ঘিরে। স্টেশন ভবনটিকে ঘিরে জনসম্পৃক্ততা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নাগরিক দায়িত্ব বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।