“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস–২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার (১৬ মার্চ) সকালে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখানে নারী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোস্যাল ইক্যুআলিটি ফর ইফেকটিভ ডেভেলপমেন্ট (সীড), জেএসকেএস, বিজিএস, ডিপুক, আফাদ, সোসাইটি ফর উদ্যোগ, মানসিকা ও পল্লী শ্রী’র যৌথ আয়োজনে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ক্রিশ্চিয়ান এইডের আর্থিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে রেজিনা সাফরীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) রোকসানা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সিভিল জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার তালমা প্রধান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মন, যুব উন্নয়নের উপপরিচালক আব্দুল ফারুক এবং জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সেলোয়ারা বেগম। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী নেত্রী এবং আট জেলার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোকসানা বেগম বলেন, “আজ নারী হিসেবে আমি গর্বিত যে আমরা সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি। নারীরা অনেক সময় মায়ের গর্ভ থেকেই বৈষম্যের শিকার হয়। তবুও নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নারীরা আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবার ও সমাজের সহযোগিতাই নারীদের এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়।”
সোস্যাল ইক্যুআলিটি ফর ইফেকটিভ ডেভেলপমেন্ট (সীড)-এর নির্বাহী পরিচালক সারথী রাণী সাহা বলেন, নারী দিবস কেবল একটি দিবস নয়; এটি নারীদের দীর্ঘ সংগ্রাম, অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রতীক। নারীর প্রতি সম্মান ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুললে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সুশাসন জোরদারের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
শেষে ডিপুক রংপুরের প্রধান নির্বাহীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।