রংপুর জেলায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে কাউনিয়া ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশ সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাসহ দুজনকে আটক করেছে। এর মধ্যে কাউনিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদককে অ্যাডভান্স ডিটেনশন আদেশে এবং পীরগঞ্জে সাবেক যুবলীগ নেতাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পীরগঞ্জে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের ব্যক্তিগত সহকারী সহ ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
কাউনিয়ায় অ্যাডভান্স ডিটেনশন আদেশে আওয়ামী লীগ নেতা আটক:
আজ ১৬ নভেম্বর ২০২৫, রাত ১২টা ২০ মিনিটে কাউনিয়া থানার অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্সের বিশেষ অভিযানে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবু ফেরদৌস হীরা (৫৫) কে কাউনিয়া থানাধীন হরিশ্বর মৌজাস্থ তপিকল বাজার সংলগ্ন কাউনিয়া সরকারি কলেজের সামনে থেকে আটক করা হয়। মিস কেস নাম্বার-১২১, তারিখ-৩১/০৮/২০২৫ খ্রিঃ মূলে অ্যাডভান্স ডিটেনশন সংক্রান্তে আটকাদেশপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ধৃত আসামীকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পীরগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, আরও ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা:
গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে পীরগঞ্জ থানার অফিসার ফোর্সের বিশেষ অভিযানে পীরগঞ্জ থানাধীন ১১ নং পাঁচগাছি ইউনিয়নস্থ জাহাঙ্গীরাবাদ বাজারস্থ রাজু মন্ডলের “ডিজিটাল সেন্টার” নামক দোকান ঘরের ভিতর থেকে আসামী মোঃ রাজু মন্ডল (৩৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আফছার আলী মন্ডলের পুত্র এবং জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। মোঃ রাজু মন্ডল ১১ নং পাঁচগাছী ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি, আওয়ামী যুবলীগ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ রাজু মন্ডলের স্বীকারোক্তি এবং দেখানো মতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে একই তারিখে রাত ৮টা ২০ মিনিটে ০৮ নং রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর বাজারের পাশ থেকে এজাহারনামীয় ২ নং আসামী মোঃ আবু হুসাইন (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মোঃ সেকেন্দার আলীর পুত্র এবং কানঞ্চগাড়ী, ০৮ নং রায়পুর ইউপির বাসিন্দা। মোঃ আবু হুসাইন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রংপুর জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
উভয় আসামীর বিরুদ্ধে এবং সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের ব্যক্তিগত সহকারী সহ অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা নং-২৪, জিআর নং-৪৬১, তারিখ-১৬-১১-২০২৫ খ্রি: ধারা- সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ সংশোধনী-২০১৩ এর ৬(ই)(ঈ)/৮/৯/১০/১১/১২/১৩ রুজু করা হয়েছে।
অভিযোগ:
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্যদের নিয়ে পরস্পরের সহায়তায় জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, নিষিদ্ধ সত্তাকে সমর্থন ও তাদের কর্মকান্ডকে গতিশীল করা, নাশকতামূলক কর্মকান্ড সংগঠনের উদ্দেশ্যে অপরাধ সংগঠনের ষড়যন্ত্র, ব্যক্তি ও প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি ক্ষতিসাধন করার ষড়যন্ত্রে গোপন বৈঠক এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অন্যান্যদের প্ররোচিত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক আইডি ও এর অন্তর্গত ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে জেলা পুলিশ রংপুরের অভিযান অব্যাহত আছে।