নীলফামারীসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে ধানে কারেন্ট পোকার ভয়াবহ আক্রমণ চলছে। মাঠজুড়ে ধানগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলন নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ডোমার উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এসে শুধু পরামর্শ দিয়ে চলে যান, কিন্তু বাস্তবে সেই পরামর্শ অনুযায়ী বাজার থেকে যে কীটনাশক কেনা হয়, তা কোনো কাজই করছে না। ফলে কৃষকরা পড়েছেন দিশেহারা অবস্থায়।
ডোমারের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন –
কৃষি অফিসের লোকজন এসে বলে দেয় কোন কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। আমরা বাজার থেকে এনে স্প্রে করি, কিন্তু কোনো ফল হয় না। টাকা খরচ হচ্ছে, ধান বাঁচছে না।”
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে অনেক কোম্পানির কীটনাশক প্যাকেটের দামের অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। পণ্যের গায়ে লেখা থাকে ৩০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এতে পণ্যের মান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনেকেই বলছেন, এভাবে নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক বাজারে বিক্রি হওয়ায় শুধু ফসলই নয়, মাটির উর্বরতাও নষ্ট হচ্ছে। তবু এই বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে,
“কীটনাশকের গুণমান নিশ্চিত না করলে শুধু কারেন্ট পোকার দমন নয়, ভবিষ্যতের ফসলও ঝুঁকিতে পড়বে। তদারকি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।”
কৃষকদের দাবি —
কীটনাশকের মান পরীক্ষার জন্য সরকারি ল্যাব টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হোক।
ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রিতে জড়িত কোম্পানি ও ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মাঠ পর্যায়ে কারেন্ট পোকার দমন কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হোক।
“কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দেন, কিন্তু যদি সেই ওষুধই কাজ না করে, তাহলে আমরা কৃষকরা যাব কোথায়।।