১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নগরের মোড়ে মোড়ে তল্লাশি জোরদারের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে টহল। সাধারণ পথচারীকেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। এ সময় পুলিশের এক কনস্টেবলের হাতেও সাবমেশিনগান (এসএমজি) দেখা গেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত নায়েক ও এএসআই (সশস্ত্র) পদবির সদস্যরা এ অস্ত্র বহন করে থাকেন। আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে এক বেতার বার্তায় টহল ও থানা পুলিশকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দেখামাত্র এসএমজি দিয়ে ব্রাশফায়ারের নির্দেশ দেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।
কমিশনারের এমন নির্দেশনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের নির্দেশ বিচারবহির্ভূত হত্যাকে উৎসাহিত করে, যা সংবিধান, আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থি।
আসক বলছে, ‘বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবনের অধিকার এবং আইনের আশ্রয় পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন অপরাধীকেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া হত্যা বা গুলি চালানোর নির্দেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুলি চালানোর নির্দেশ রাষ্ট্রের নীতি ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় উল্লেখ করে আসক বলছে, ‘এ ধরনের বক্তব্য বিষয়ে সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সদস্যদের মানবাধিকার ও সংবিধানসম্মত দায়িত্ব পালন সম্পর্কে যথাযথ বার্তা দিতে হবে।’
আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা। চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারের এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বশীল প্রশাসনিক আচরণের পরিপন্থি এবং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে। এ বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এমন নির্দেশ বা মনোভাব ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও বিচারবহির্ভূত ঘটনার শঙ্কা সৃষ্টি করতে পারে, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও আইনের শাসনের জন্য অপ্রত্যাশিত।’