রংপুরে তিস্তা নদীর পানির তোড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধ ভেঙ্গে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গত দু’দিনে ৫টি ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন ঠেকাতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
জানা যায়, উজানের পাহাড়ী ঢলে গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সম্প্রতি গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনয়নের নোহালী গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ ভেঙ্গে নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। ফলে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত দু’দিনে নোহালী ইউনিয়নের নোহালী গ্রামের আব্দুল করিম, কাচারীপাড়ার সুরুজ মিয়া, সাহাজুল মিয়া, সুলতানা বেগম, শাহজাহান মিয়ার ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে শাহজাহান মিয়ার ১১ একরের জমি, ৮০ শতকের উপরে থাকা বাড়ি ও দেড় একরের পুকুর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে নোহালী চর বাগডোহরা, চিলাখাল, কাচারীপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দিরসহ রাস্তাঘাট।
কাচারীপাড়ার শাহজাহান মিয়া বলেন, মোর আর কিছু থাকিল না। সউগ নদী কাড়ি নিল। প্রশাসন, এমপিক কত কনু নদী কোনা বান্দি দেন। কাউয়ো মোর কতা শুনিল না। এই যে নদী সউগ নিয়া গেইল, মোর এই ক্ষতি কায় পুষে দিবে।
তিস্তা নদীরগর্ভে বসতভিটা হারানো নোহালী গ্রামের আব্দুল করিম মিয়া বলেন, তিস্তার পানির তোড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধের দেড়শ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তাই বাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলে কাজ হবে না। পরিকল্পিতভাবে তিস্তার তীর রক্ষায় স্থায়ী উদ্যোগ প্রয়োজন। আমার বাড়িতে তিনটি ঘর ছিল। নদীতে সেই ঘর বিলীন হয়ে গেছে। অনেকের কাছে মাথাগোঁজার জন্য একটু জায়গা চেয়েছি, কিন্তু কেউ দেয় নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, তিস্তা নদী নিয়্যা পারমানেন্ট কোন কাম না হইলে প্রতি বছর হামাক এমন কষ্ট করা নাগবে। জমি-জমা নদীত চলি গেইলে শহরোত যায়া রিক্সা চালে ভাত খাওয়া নাগবে। সরকার তো কয় তিস্তা বান্দি দেমো। কিন্তু কই এমপি-মন্ত্রী কাইয়ো তো কাম করে না।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, নোহালীতে ভাঙ্গন রোধে সাড়ে ৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই বরাদ্দকৃত জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা শুরু হয়েছে। আশা করছি ভাঙ্গন প্রতিরোধ হবে।