গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বিশেষ ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২৬ জন পুরুষ আসামীর ২দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসাথে বাকী ১১ নারী আসামীর জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা সদর আমলী আদালতে শুনানী শেষে এ আদেশ দেন আদালতের বিচারক।
কোর্ট ইন্সপেক্টর জামাল উদ্দিন জানান, গাইবান্ধা সদর থানায় দায়েরকৃত মামলায় ৩৭ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের মধ্যে ২৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামীদের পক্ষের শুনানী শেষে আদালত সন্তোষ্ট হয়ে তাদের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবীগন জামিনের আবেদন করেন। আদালত সকল আসামীর জামিন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার দিন গাইবান্ধা সদরের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৩৭ জনসহ পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে তাদের কান থেকে বিশেষ ডিভাইস বের করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ৪৩ টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪ টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। এরমধ্যে গাইবান্ধা সদরের ১৯ টি কেন্দ্র থেকে ৩৭ জন, পলাশবাড়ির ৩ টি কেন্দ্রে থেকে ১২ জন এবং ফুলছড়ির উপজেলার দুটি কেন্দ্র থেকে আটক করা হয় ৩ জনকে।
পরদিন (১০ জানুয়ারি) আটক ৫২ জনসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে তিনটি থানায় মামলা করে দুই উপজেলার চার কেন্দ্র সচিব ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান। ৫৫ আসামীর মধ্যে গাইবান্ধা সদর থানার ৪০ জন। যার মধ্যে পলাতক আসামী রয়েছেন ৩ জন।
মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সদরের আটক পুরুষ ২৬ আসামির প্রত্যেকের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। নারী এবং কোনো কোনো নারীদের শিশু বাচ্চা থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়নি। তিন আসামী পলাতক রয়েছে।