মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপ বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি, যা সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। যারা প্রতিনিধিদের বিব্রত অবস্থায় ফেলেছিলেন তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এনসিপির সিলেট জেলা ও মহানগর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এনসিপিকে শাপলা প্রতীক না দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে এলেও থুতু দেবে। আওয়ামী লীগ ও দোসররা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চলমান আলোচনা ইতিবাচক জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, আগামীতে নির্বাচন বা যেকোনো বিষয়ে সক্রিয় থাকতে আমাদের সমমনা দলগুলোর একত্রিত হওয়া খুব বেশি প্রয়োজন।
এছাড়া, বুধবার রাজধানীতে ‘জনগণের নির্বাচন–ভাবনা’ শীর্ষক জরিপের দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় পর্বের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপটি পরিচালনা করেছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিং। সহযোগিতা করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ভয়েস ফর রিফর্ম ও ব্রেইন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, কোন জরিপ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কীভাবে হয়, এগুলোর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না সেটিও বিবেচ্য বিষয়।জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪ হাজার ৭২১ জন উত্তরদাতা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দের দলের কথা প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা গেছে, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতার পছন্দের দল বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেছেন ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা। আর জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) পছন্দ করেছেন ৪ দশমিক ১০ শতাংশ উত্তরদাতা।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতার পছন্দ কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগ। চলতি বছরের মার্চের চেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের হার বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
জরিপের এ ফলাফল নিয়ে বুধবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় সারজিস আলমকে। জবাবে তিনি জরিপের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমি মানুষের কাছে যাচ্ছি, মানুষ আশা দিচ্ছে।