শিরোনাম
রংপুরে নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানজিদার লাশ উদ্ধার জমি নিয়ে বিরোধে হামলায় নারীসহ গুরুতর আহত ৫ রংপুরে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে চাষীদের বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ রংপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু হোটেল কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মালিক মিঠাপুকুরে মিশুক ছিনতাইকারী নারী আটক ব্র্যাক সীডের উদ্যোগে টেকসই ও নিরাপদ কৃষি কর্মশালা অনুষ্ঠিত ইন্টার্ণদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন রমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

২৬ টুকরো হওয়া আশরাফুলের দাফন সম্পন্ন; গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর / ৩৮৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫

ঢাকায় নৃশংসভাবে খুন হওয়া রংপুরের বদরগঞ্জের আশরাফুল হকের জানাজা ও দাফন ঘিরে পুরো নয়পাড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ শনিবার(১৫ নভেম্বর) ভোর থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন আশরাফুলের গ্রামের বাড়িতে। সকাল ৯ টার দিকে যখন জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, তখন স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আশরাফুলের মা, স্ত্রী, বাবা ও সন্তানসহ স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

শুক্রবার গভীর রাতে আশরাফুলের খণ্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরদিন সকালে জানাজায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এই হৃদয়বিদারক মুহূর্তে মায়ের আহাজারি, স্বজনদের কান্না এবং বিহ্বল মানুষের দীর্ঘশ্বাসে আশরাফুলের শেষবিদায় মুহূর্তটি আরও করুণ হয়ে ওঠে।

পরিবারের অভিযোগ, বাল্যবন্ধু জরেজ আশরাফুলকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। নিহত আশরাফুলের বোন আনজিনা বেগম শুক্রবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আশরাফুলের বন্ধু জরেজুল ইসলাম জরেজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জরেজুল ইসলাম এবং শামীমা নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আশরাফুল হকের স্ত্রী লাকী বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “জরেজকে নিজের ভাই মনে করত আমার স্বামী। জাপান যাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা চেয়েছিল, আমরা সেই টাকাও দিতে চেয়েছিলাম। আরও টাকা লাগলে তাও দিতাম। আমার সব সম্পত্তি নিয়ে হলেও স্বামীকে বাঁচিয়ে রাখতাম। কেন আমার স্বামীর প্রাণ কেড়ে নিল? আমি জরেজের ফাঁসি চাই। যারা আমার স্বামীকে টুকরা টুকরা করেছে, সবার ফাঁসি চাই।”

বাবা আবদুর রশিদ বিলাপ করে বলেন, “আমি হাসপাতালে ছিলাম। জরেজ খুব তাগাদা দিয়ে ছেলেটাকে ঢাকা নিয়ে গেছে। বাবাটাকে খুন করবে জানলে নিজের জান দিয়ে হলেও ঢাকা যেতে দিতাম না। ছোট নাতি-নাতনি, আমাদের এখন কে দেখবে?”

মা এছরা খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনেরা জ্ঞান ফেরালে তিনি বিলাপ করে বলেন, “আমার ছেলে তো কারও ক্ষতি করেনি। তাহলে কেন এমন করল ওরা? কেন আমার ছেলেকে টুকরা টুকরা করল?”

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল হক মা-বাবার একমাত্র ছেলে ছিলেন। তাঁর চার বোন রয়েছে। আশরাফুল ছিলেন কাঁচামাল আমদানিকারক। বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল এনে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে সরবরাহ করতেন। তাঁর সংসারে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ে এবং ৭ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, আশরাফুল একজন বড় কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি নম্র ও ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। প্রতি বছর দুই ঈদে তিনি এলাকার গরিব মানুষদের শাড়ি, লুঙ্গি ও শুকনা খাবার বিতরণ করতেন। কোরবানি ঈদে গরু কিনে মাংসও বিতরণ করতেন। তিনি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন।

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, আশরাফুল হকের লাশ তাঁর নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। তাঁকে হত্যার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে এবং জরেজুল ও শামীমা নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর মালয়েশিয়া-ফেরত বন্ধু জরেজুল ইসলামের সঙ্গে আশরাফুল ঢাকায় যান। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের পাশে একটি ড্রাম থেকে তাঁর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সবাই আশরাফুলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ