শিরোনাম
রংপুরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় টিসিএ মিডিয়াকাপ-২০২৬ শুরু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | |Katha24.com || Katha Media বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী রংপুরে নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদে আজ পাস হলো ২৪টি বিল, চলতি অধিবেশনে মোট ৯১টি বিল অনুমোদিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের নারী সাংবাদিকদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নির্বাচন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন … রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডন রংপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, বৃদ্ধ ও কিশোরীসহ আহত অনেকে মিঠাপুকুরে বসতভিটায় হামলা: গাছ কেটে লাখ টাকার ক্ষতি, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রংপুরে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে তুরস্ক

ডেস্ক রিপোর্ট / ৩০৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় দেশে নেই সরকারিভাবে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল। গত কয়েক বছরে ঢাকাসহ দেশের একাধিক শহরে ২৫টি সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) সেন্টার গড়ে উঠেছে, এতে সফলতাও মিলছে। তারপরও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যান। সম্প্রতি বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ভুক্তভোগীরা যাচ্ছেন তুরস্কে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতি বছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এসব কারণে বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় আইভিএফ হাসপাতাল করতে চায় তুরস্কের ওকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমেরিকা-জার্মানিসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়টির হাসপাতাল রয়েছে। তারা বাংলাদেশেও এ ধরনের হাসপাতাল করতে চায়। বাংলাদেশে তুরস্ক সরকারের অনুমোদিত একমাত্র মেডিকেল ট্যুরিজম কোম্পানি টার্কিশডক এটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শেষের দিকে হাসপাতালটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।

সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। চালুর অন্তত প্রথম দুই বছর তুরস্কের চিকিৎসকরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করবেন। টেকনোলজি ও অভিজ্ঞতা হাতেকলমে শিক্ষা দেবেন তারা। এরপর পুরোটাই চলবে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের দ্বারা।

বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন এমন দম্পতির সংখ্যার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। একই সঙ্গে ঠিক কত সংখ্যক বাংলাদেশি এ সমস্যার সমাধান পেতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন, সেই তথ্যও জানাতে পারেননি প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন। উন্নত দেশগুলোতে এই হার সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আর বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যআয়ের দেশগুলোতে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টারিলিটি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম বলেন, নিম্ন মধ্যআয়ের দেশে যারা বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভোগেন তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই দেশের বাইরে যায় চিকিৎসার জন্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি রোগী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। বিদেশগামী এসব রোগীর বড় একটি অংশ যাচ্ছেন বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায়। যাদের মূল গন্তব্য ভারত ও সিঙ্গাপুর। যেখানে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। বর্তমানে বন্ধ্যত্বের সমস্যার সমাধান পেতে বাংলাদেশিরা তুরস্কমুখী হচ্ছেন। সরকার অনুমোদিত চ্যানেল ছাড়াও ভ্রমণ ও বিজনেস ভিসায়ও অনেকেই গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

টার্কিশডকের কান্ট্রি হেড এম নুরুজ্জামান রাজু আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি আইভিএফ সেন্টার ও হাসপাতাল হয়েছে। অনেকে ভালো সেবা দিচ্ছে। তাদের সেবায় দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে থাকা অনেক দম্পতির মুখে হাসি ফুটছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। ফলে বড় অংশই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তুরস্কেও যাচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি। টার্কিশডকের মাধ্যমে যেসব বাংলাদেশি তুরস্কে চিকিৎসার উদ্দেশে যাচ্ছেন, তাদের ৩০ ভাগই এ জটিলতার সমাধান পেতে যান। এতে বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশের টাকা যাতে দেশেই থাকে তাই এমন চিন্তা।

তিনি আরো বলেন, তুরস্কের দুটি বেসরকারি কোম্পানি হাসপাতালটি করতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী বছরের শেষদিকে হাসপাতালটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বোনম্যারো ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টসহ জটিল রোগের চিকিৎসা চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। যেহেতু আমরা মেডিকেল ট্যুরিজম শুরু করেছি, কী পরিমাণ বাংলাদেশি তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে তার তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে রয়েছে। তাই বিনিয়োগ সহজ হবে। এ বিনিয়োগে বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে আগ্রহী হলেও সেটিকেও আমরা স্বাগত জানাব। তাছাড়া সরকারি পর্যায়েও বাংলাদেশে তুরস্কের নানা কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশের রোগীদের উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া আমাদের চাওয়া।

নুরুজ্জামান রাজু বলেন, বাংলাদেশ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনো কিছুটা পিছিয়ে। এ হাসপাতাল হলে সেখানকার অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশে আসবেন। তাদের জ্ঞান-অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। চিকিৎসকরা আরো বেশি প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের কোনো চিকিৎসক তুরস্কে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে আমরা সেটিও করতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ নিয়ে টার্কিশডকের প্রধান নির্বাহী ফাইক গকসুর সঙ্গে কথা হয়েছে আমার দেশের। তিনি বলেন, ‘গত দুই দশকে তুরস্ক বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ দেশ হয়ে উঠেছে। আজকের দিনে তুরস্কের অনেক হাসপাতাল উন্নত প্রযুক্তি, ইনফেকশন কন্ট্রোল, নৈতিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ক্লিনিক্যাল দক্ষতার দিক থেকে ইউরোপের অনেক প্রতিষ্ঠানকেও ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য, এ অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ, যার তরুণ জনসংখ্যা অনেক, কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো সম্পূর্ণভাবে জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।’

এ বিষয়ে ফাইক গকসু বলেন, ‘বাংলাদেশে বন্ধ্যত্ব একটি গভীর মানসিক ও সামাজিক বিষয়, যেখানে বিশ্বস্ত চিকিৎসাসেবার চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। টার্কিশডক এমন একটি মডেল দেয়, যা নৈতিক, ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য এবং বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত। তুরস্কে আমাদের আইভিএফ প্রোটোকলে সফলতার হার ৭০ শতাংশের বেশি এবং সব চিকিৎসা শুধু দম্পতির নিজস্ব জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করেই করা হয়, যা ইসলামি চিকিৎসা নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশে আমাদের নতুন প্রকল্পটি শুধু একটি ক্লিনিক নয়, বরং একটি যৌথ রেফারেন্স সেন্টার।

যেখানে তুর্কি ও বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করবেন। প্রথম ধাপে আইভিএফ, জেনেটিক স্ক্রিনিং ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবা শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপে আমরা লিভার, কিডনি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সমন্বয় প্রোগ্রাম চালু করব। এর ফলে বাংলাদেশের রোগীরা দেশেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন, আবার প্রয়োজনে তুরস্কের সঙ্গেও সংযুক্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা নিতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, তুরস্ক শুধু চিকিৎসা প্রদানকারী হিসেবেই নয়, বরং একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়—যারা জ্ঞান, প্রযুক্তি ও নৈতিক মানদণ্ড স্থানান্তর করবে। টার্কিশডকের লক্ষ্য শুধু রোগী স্থানান্তরে সীমাবদ্ধ নয়, আমরা বাংলাদেশে ডাক্তার প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম, যৌথ মেডিকেল সেন্টার, ডিজিটাল কনসালটেশন সিস্টেম এবং উন্নত সার্জিক্যাল প্রযুক্তি স্থানান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে টার্কিশডকের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় একটি সমস্যা পর্যাপ্ত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষজ্ঞ জনবলের ঘাটতি। হাসপাতালগুলোর ভবন ও কাঠামো ভালো, কিন্তু ইনফেকশন রেট বেশি, উন্নত ডায়াগনস্টিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং সার্জারিতে নিরাপত্তা প্রটোকলের অভাবের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। এখানেই আমরা পরিবর্তন আনতে চাই। বিশেষ করে তুর্কি মেডিকেল প্রযুক্তিকে বাংলাদেশের হাসপাতালে একীভূত করা, রিমোট ডায়াগনোসিস ও সেকেন্ড ওপিনিয়ন সিস্টেম চালু করা এবং তুর্কি ও বাংলাদেশি চিকিৎসকদের যৌথ সার্জারি ও প্রশিক্ষণ মডেল তৈরি করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তুরস্কের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত জিরো ইনফেকশন সার্জিক্যাল মডেল বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হবে। এতে রোগীরা নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ