শিরোনাম
দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে রংপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পেল ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা রংপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার রংপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারী মৃত্যু মিঠাপুকুর ভুমি অফিসের ক্যাশিয়ারের তৌহিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সবচেয়ে জরুরী …. রংপুরে ত্রাণ মন্ত্রী দুলু রংপুরে তিস্তা নদীবেষ্টিত কর্মহীন ও দ্স্থু ৩’শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান রংপুরে সাংবাদিক হত্যা মামলায় এক আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন রংপুরে চার খুনের ঘটনায় তদন্তে আসা নানা প্রশ্নের জবাব পেশাদারিত্বের সাথে খুঁজছে পুলিশ
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

রাত দু’টা থেকেই লাইনে নারী-পুরুষ, সকাল ৯টায় মেলে আটা, ফেরত যান শতাধিক সুবিধাভোগী  

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি / ২৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫

খোলা বাজারে খাদ্যশষ্য বিক্রয়ের (ওএমএস) আওতায়  সরকারি আটা বিক্রির লাইনে রাত থেকেই জমছে মানুষের ভিড়। কেউ রাত দুইটায়, কেউ ভোর তিনটায় এসে দাঁড়ান লাইনে। অথচ আটা বিতরণ বা বিক্রি শুরু হয় সকাল ৯টায়। এই নয় ঘণ্টার অপেক্ষা যেন তাদের জীবনের অনিবার্য অংশ হয়ে গেছে। রাতভর ঠান্ডা, অন্ধকার আর মশার কামড় সহ্য করেও অপেক্ষায় থাকেন নারী-পুরুষ। প্রতিদিন মাত্র ১০০ জনকে দেওয়া হয় পাঁচ কেজি করে আটা। ফলে যারা আগে আসতে পারেন না, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরে যান।

এমন চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে। রাত হলেই লাইনে ভীড় করছেন তারা। ভীড় ঠেলে অনেকে আটা পেলেও খালি হাতে ফেরত যাচ্ছে শতাধিক নারীপুরুষ।

খাদ্য বিভাগ বলছে,  চিলমারী উপজেলায় তিন জন ওএমএসের ডিলার রয়েছেন যাদের মাধ্যমে প্রতিদিন ১ টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে ২৪ টাকা কেজি দরে। যা বাইরে কিনতে গেলে ৫০ টাকা কেজি পড়ছে।  যার ফলে নিম্নবিত্ত পরিবার ও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা কম মুল্যে আটা নিতে অনেক রাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন।

সুবিধাভোগীরা জানান, সকাল ৯ টায় পাঁচ কেজি করে আটা বিক্রি করে কম দামে। তাই রাতেই আসতে হচ্ছে। তা না হলে তো সিরিয়াল পাওয়া যায় না। রাতে আসতেও সমস্যা হয়,  রাস্তায় অনেক সময় কুকুর আক্রমণ করার সম্ভাবনা থাকে। তারপরেও বাধ্য হয়েই আসতে হয়। বাজারের আটা কিনতে গেলে তো দেখা যায় প্রায়  ৫০ টাকা কেজি দরে নিতে হবে। আর এখানে একটু অপেক্ষা করে সিরিয়াল নিতে পারলে অর্ধেক দামে আটা পাওয়া যায়।

থানাহাট ইউনিয়নের ডেমনাপাড় এলাকার তোহেরা বেগম বলেন, আমরা আটা নেয়ার জন্য রাতে আসছি, কোনোদিন পাই কোনো দিন পাইনা।

আরেক সুবিধাভোগী আমেনা বেগম জানান, এত রাতে আসি খালিহাতে ফেরত গেলে স্বামীও তো রাগ হয়। এমনও হয় বউ-বেডিও এখানে এসে দাঁড়িয়ে থাকা লাগে। রাতে তো রাস্তার সুবিধা – অসুবিধার কথা বলাই লাগে, রাস্তায় কি ঘটে বলা যায় না।

ওএমএসের ডিলার আমির হোসেন বলেন, অনেক রাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সবাইকে আটা দেয়া সম্ভব হয় না। কারণ আমাদের লিমিট দেয়া আছে। আমার অনুরোধ বরাদ্দ বাড়ানোর। যাতে যে লোক গুলো ফেরত যায় তারাও যেন পান।

সমাজকর্মী সাওরাত হোসেন সোহেল জানান, এই দৃশ্যটা খুব কষ্টের। মানুষ রাতভর অপেক্ষা করছে সামান্য আটা পাবার আশায়। এটা শুধু অর্থনৈতিক কষ্ট না, মানবিক মর্যাদারও প্রশ্ন। সরকার চাইলে এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে পারে।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের সঙে কথা বলে দেখি চাহিদার পরিমাণ বাড়ানো যায় কি না।

সুবিধাভুগীরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়াতে পারলে রাতভর অপেক্ষা করে সিরিয়াল নিতে হবে না, এতে কমে যাবে কষ্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ