রংপুরের মিঠাপুকুরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বাশুরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জান্নাতি বেগম (২২) বুধবার মিঠাপুকুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী শাকিল মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী শাকিল মিয়া ও শ্বাশুরী শিরিনা বেগম বিভিন্ন অজুহাতে তার নিকট যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। এসব দাবি পূরণ না করলে তাকে ধারাবাহিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তারা।
এক বছর আগে যৌতুকের টাকা না পেয়ে আসামিরা জান্নাতিকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে তিনি তার দুই বছর ছয় মাস বয়সী শিশু কন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় স্বামী শাকিল মিয়া তাকে ভরণপোষণ না দিয়ে গোপনে অন্যত্র বিয়ে করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার দিন (১৮ নভেম্বর ২০২৫) সকালে জান্নাতি বেগম তার পিতাকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে গেলে আসামিরা আবারও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। যৌতুকের টাকা ছাড়া সংসার করবে না বলেও জানিয়ে দেন শাকিল মিয়া।
এর আগে বিষয়টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসা হলেও আসামিপক্ষ সেই আপোষ মানেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জান্নাতি বেগম জানান, নির্যাতনের বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তার বাবা-মা শাকিল মিয়াকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র দেন। এরই মধ্যে জান্নাতি একটি কন্যাসন্তানের মা হন। শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নির্যাতন সহ্য করলেও আসামিরা পরবর্তীতে আবারও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
অভিযুক্ত স্বামী শাকিল মিয়া জানান, আমি ভয় দেখানোর জন্য মিথ্যা বিয়ের কথা বলেছি। এছাড়াও তিনি যৌতুকের কথাও অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।