দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে নীলফামারীর সৈয়দপুর পর্যন্ত ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের প্রায় ১৭ কিলোমিটার তার চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি লাইনে তিনটি তার থাকায় মোট ৫১ কিলোমিটার তার চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এই চুরির ফলে সরকারের কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে নেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
চুরির বিস্তারিত ও স্থানীয়দের অভিযোগ:
সৈয়দপুর গ্রিড থেকে পার্বতীপুর বিদ্যুৎ অফিস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সঞ্চালন লাইনটি বিভিন্ন গ্রাম ও সড়কের পাশ দিয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চৌমুহনী বাজার, মুন্সিপাড়া, বেলাইচন্ডি বাজার, জাকেরগঞ্জ, বান্নিনরঘাট গ্রামের পেছনের ধানক্ষেত এবং পার্বতীপুর-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়া খুঁটিগুলো এখন তারশূন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এমনকি পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা ও বাসটার্মিনাল হয়ে শহরে প্রবেশ করা লাইনটিও তারবিহীন।
বেলাইচন্ডি বুড়িরঘাট এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা জন্ম থেকেই এই খুঁটিগুলোতে বিদ্যুতের তার দেখে আসছেন, কিন্তু হঠাৎ করেই দেখেন তারগুলো গায়েব হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, এই বিশাল পরিমাণ তার চুরি কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি এবং অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া সম্ভব নয়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যালুমিনিয়াম মার্টিন তার খোলা বাজারে সহজে পাওয়া যায় না, যা এই সন্দেহের আরও বড় কারণ।
নেসকো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
পার্বতীপুর নেসকো কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সরকারের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের ক্ষতি হিসেবে দেখছে। পার্বতীপুর বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র নেসকো কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান জানান, তিনি ছুটিতে আছেন এবং অফিসে ফিরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। তবে পার্বতীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী সত্যজিৎ দেব শর্মা তথ্য অধিকার ফরম পূরণের মাধ্যমে তথ্য নেওয়ার কথা বলে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও পার্বতীপুরে রেলপথে প্রায় ৬ হাজার নাট-বল্টু চুরির ঘটনা ঘটেছিল। এই ধারাবাহিক চুরির ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।