রংপুরের মিঠাপুকুর থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, অসদাচরণ, ঔদ্ধত্যসহ নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় দেবনাথ (৪৮) মিঠাপুকুরের বৈরাতীহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তকেন্দ্রে যোগদানের পর থেকেই এসআই অজয় একের পর এক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়েন। থানা এলাকায় অনুসন্ধান করে তাঁর নানা অপকর্মের একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী জুয়েল আহমেদ (৩৫), তাঁর পরিবারকে জড়িত করে জমিজমা সংক্রান্ত একটি গাছ কাটার মামলায় ঘটনার সময় অফিসে থাকা সত্ত্বেও চার্জশিটে তার নাম যুক্ত করা হয়।
জুয়েল বলেন, আমার নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। পরে আরো টাকা দাবী করে। কিন্তু আমার কাছে তখন টাকা না থাকায় আমি দিতে পারিনি । তাই সে আমার নাম চার্জশিটে দিয়েছে ।
এদিকে পদ্মপুকুর এলাকার দোকানি আসাদুজ্জামান (৫৭) জানান, অজয় মামলার আয়ু হয়েও আসামীদের গ্রেফতার করেননি। বরং মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদেরকে বাজারে ঘোরাফেরা করতে দিয়েছেন। আসামীদের গ্রেফতারের অনুরোধ করলে অজয় বলেন,
আমার সময় নাই, নিরাপত্তার সমস্যা আমি এখন যেতে পারবো না ।
পুলিশের অন্য সদস্যদের থেকেও জানা গেছে, এসআই অজয় অধিকাংশ সময় বাসা থেকে বের হতে চান না, দায়িত্বের কাজ অধীনস্তদের দিয়ে করিয়ে নেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। ‘Rakibul Islam Emon’ নামের এক ফেসবুক আইডিতে লেখা হয়, টাকার বিনিময়ে সে যা ইচ্ছা তাই করে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিয়ে মিথ্যা মামলা করতে সহায়তা করছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এসআই অজয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় দেবনাথ জানান, তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি।