বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছেন, দলীয় আনুগত্য ত্যাগ করে পেশাদারিত্বের সাথে সাংবাদিকতা করতে পারলেই সাংবাদিকদের আর্থিক ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সাথে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করাও সম্ভব হবে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রংপুর টাউন হলে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ ও সাংবাদিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহাম্মদ আবদুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের উচিত দলের লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসা এবং নির্মোহভাবে কাজ করা। এমনকি নিজের মতাদর্শের সরকারের বিষয়েও চোখ রেখে কথা বলার সাহস থাকতে হবে। তিনি স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি তার ঋণের কথা, কারণ তিনিই বাকশাল পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, যার ফলে তার মতো অনেকেই সাংবাদিকতা পেশায় আসতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, তার আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান থাকলেও একজন সাংবাদিক হিসেবে নির্মোহ থাকা জরুরি। সরকারি চাকরিতে থেকেও তিনি সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের চেষ্টা করেন এবং কাউকে ছাড় দেন না। বিএনপি সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী বিটে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তিনি কখনো তদবিরবাজি করেননি এবং সবসময় নির্মোহ সাংবাদিকতা করেছেন।
মুহাম্মদ আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, একজন ব্যক্তির নিজস্ব আদর্শ বা রাজনৈতিক দলের প্রতি দুর্বলতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু পেশাগত ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়তে দেওয়া উচিত নয়।
রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে ‘সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা ও কল্যাণে করণীয় এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীসহ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা হয়। রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালের সভাপতিত্বে এবং আরপিইউজের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নানের সঞ্চালনায় এতে ট্রাস্টের উপ-পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এ বি এম রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ, আরপিইউজের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেকসহ কয়েকশ গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে রংপুর জেলার ১৯ জন সাংবাদিকের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।