শিরোনাম
দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে রংপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পেল ২ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা রংপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার রংপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় এক নারী মৃত্যু মিঠাপুকুর ভুমি অফিসের ক্যাশিয়ারের তৌহিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যিকারের দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা সবচেয়ে জরুরী …. রংপুরে ত্রাণ মন্ত্রী দুলু রংপুরে তিস্তা নদীবেষ্টিত কর্মহীন ও দ্স্থু ৩’শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান রংপুরে সাংবাদিক হত্যা মামলায় এক আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের যাবজ্জীবন রংপুরে চার খুনের ঘটনায় তদন্তে আসা নানা প্রশ্নের জবাব পেশাদারিত্বের সাথে খুঁজছে পুলিশ
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

রংপুরে নিজের মা’কে হত্যার পর মাটিচাপা; পুত্রের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর / ১২২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫

রংপুরে নিজের মাকে হত্যার দায়ে ছেলে জামিল মিয়ারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে আরও বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত জামিল রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার নাজিরদহ এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়াতে জামিল মিয়ার স্ত্রী কাকলী খাতুন বাবার বাড়ি চলে যায়। এ কারণে জামিল মিয়া তার মা জামিলা বেগমকে দোষারোপ করতে থাকে। এ নিয়ে মায়ের ওপর খুবই ক্ষোভ সৃষ্টি হয় জামিলের।

এদিকে, স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে জামিল মিয়া ও তার মা জামিলা বেগম একই ঘরে পৃথক দুটি খাটে বসবাস করতে থাকে। এই সুযোগে জামিল মিয়া তার মাকে হত্যার সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে গত ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট রাতে খাওয়া শেষে জামিল মিয়া ও তার মা জামিলা খাতুন একই ঘরে পৃথক খাটে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১টার দিকে জামিল মিয়া দেখে তার মা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এই সুযোগে জামিল মিয়া তার মায়ের নাক মুখে বালিশ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং হত্যা করে সেই লাশ বসত ঘরের মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখে।

অন্যদিকে, কয়েকদিন থেকে প্রতিবেশীরা জামিলা বেগমকে দেখতে না পেয়ে জামিল মিয়াকে তার মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রতিবেশীদের জানায় তার মা কোথায় গেছে সে জানে না। পরে ২৪ আগস্ট প্রতিবেশীসহ জামিলের মামাতো বোন রেজিনা জামিল মিয়ার বসত ঘরে প্রবেশ করে খোঁজাখুঁজি করে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে দেখতে পায় খাটের নিচে মাটি উঁচু হয়ে আছে এবং ঘুঘরি পোকা মাটি তুলেছে। পাশাপাশি ঘরে হালকা গন্ধ পাওয়া যায়। পরে জামিল মিয়ার মামাতো বোনসহ গ্রামবাসীরা খাটের নিচে কোদাল দিয়ে খুঁড়লে মৃত জামিলার হাত বের হয়। তখন গ্রামবাসী জামিলকে আটক করে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে খাঁটের নিচ থেকে মাটি খুঁড়ে জামিলার লাশ বের করে। পরবর্তীতে মৃত জামিলা বেগমের ভাই মো. ছামসুল হক বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

তিন বছর ধরে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্য পরীক্ষা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি মো. আফতাব উদ্দিন এবং আসামিপক্ষের স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আইনজীবী ছিলেন শামিম আল মামুন।

পিপি মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, মাকে হত্যা করেছে ছেলে। যার কারণে মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর ছিলো। শেষ পর্যন্ত আদালত ছেলের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এই রায়ের মধ্যদিয়ে নিহতের পরিবার ন্যায় বিচার পেয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ