সারাদেশে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে পরস্পরবিরোধী হলেও রংপুরের পীরগঞ্জে এ দুই দলের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে গড়ে উঠেছে অদ্ভুত সমঝোতা। করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য তারা নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি (অঙ্গীকারনামা) স্বাক্ষর করেছেন। যাতে বিষয়টি দলীয় পর্যায়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে জন্য অঙ্গীকারনামার কপি নেতৃবৃন্দকেও সরবরাহ করা হয়েছে। ওই সমঝোতায় সমন্বয়কারী ও উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন বাদশা মিয়া (মুহরী)। জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট সোমবার রাত ১০টার দিকে এ সমঝোতা সম্পন্ন হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার (২২/০৯/২০২৫) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ৬নং টুকুরিয়া ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর ঘাট এলাকায় করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর আহমেদ। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলন চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পাইপ কেটে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন—
“আমরা ঘটনাস্থলে থাকা পাইপ কেটে ধ্বংস করেছি। উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে। পরিবেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।”
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধ বালু ব্যবসা চলছিল। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের বালু উত্তোলন নদী ভাঙন, কৃষিজমি ধ্বংস ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই অবৈধ বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।