আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন। বিশ্বের ১৪০ জনেরও বেশি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই অধিবেশনে অংশ নেবেন। এবারের অধিবেশনে গাজা ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছে এএফপি।
প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় আগামী সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বিতর্ক পর্ব শুরু হবে। এতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য: ‘বেটার টুগেদার: এইটি ইয়ারস এণ্ড মোর ফর পিস, ডেভেলপমেন্ট এণ্ড হিউম্যান রাইটস’।
এএফপির প্রতিবেদন মতে, অধিবেশনে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে গাজার মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়। প্রস্তাবে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়। আগামী সপ্তাহের অধিবেশনে ফ্রান্স, কানাডা ও ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান একে ‘প্রতীকী’ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, দেশগুলো যদি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পর গাজা অভিযান বন্ধের জন্য ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, তাহলে এর বাস্তব প্রভাব পড়তে পারে।
গোয়ান সতর্ক করে বলেন, ইসরাইল প্রতিশোধ নিতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কারণে পরিস্থিতি আরও ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ হতে পারে। নেতানিয়াহু সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং তিনি এরই মধ্যে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তার আমলে কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ে উঠবে না।
ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতির বিপক্ষে। তাই আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলকে ওয়াশিংটন ভিসা দেয়নি। তবে আব্বাসকে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভাষণের অনুমোদন দেয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সাধারণ পরিষদে ভোট হবে।